
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
নারায়ণগঞ্জের টানবাজার হরিজন কলোনিতে জন্ম সনু রানী দাসের। পারিবারিক নানা প্রতিকূলতা ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে শিক্ষাজীবনে এগিয়ে গেছেন তিনি। এসএসসি ও এইচএসসি পেরিয়ে সম্পন্ন করেছেন গ্র্যাজুয়েশন। তাঁর এই অর্জন তাঁকে হরিজন সম্প্রদায়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট হিসেবে পরিচিতি এনে দেয়।
শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি নিজের সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার ও শিক্ষা নিয়ে কাজ করার আগ্রহ ছিল সনু রানী দাসের। ২০০৮ সালে গ্লোবাল এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের মাধ্যমে তিনি স্কটল্যান্ডে যাওয়ার সুযোগ পান। সেখানে স্কটিশ পার্লামেন্টে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের জীবন, শিক্ষা ও বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
জন্মপরিচয়ের কারণে জীবনের একসময় নানা অপমান ও বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। তবে এসব প্রতিকূলতা তাঁর পথচলায় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাসকে শক্তি করে তিনি আন্তর্জাতিক পরিসরেও নিজের সম্প্রদায়ের কথা তুলে ধরেছেন।
সনু রানী দাসের উদ্যোগ শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। হরিজন সম্প্রদায়ের শিশুদের শিক্ষার প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং নারীদের এগিয়ে নিতে বিভিন্ন কার্যক্রমের সঙ্গেও তিনি যুক্ত হয়েছেন।
সনু রানী দাসের জীবনসংগ্রাম ও অর্জন দেখায়, প্রতিকূল সামাজিক বাস্তবতার মধ্যেও শিক্ষা ও আত্মবিশ্বাস একজন মানুষকে সামনে এগিয়ে নিতে পারে। তাঁর পথচলা হরিজন সম্প্রদায়ের নারী ও শিশুদের জন্যও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে উঠেছে।