
নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দাশ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি আর বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামে উদযাপিত হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা। নগরজুড়ে ৩০টির বেশি রথের শোভাযাত্রা, হাজারো ভক্তের অংশগ্রহণ, শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি, কীর্তন ও করতালের সুরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বন্দরনগরী পরিণত হয় এক উৎসবমুখর জনপদে।
দুপুর আড়াইটার দিকে নগরের প্রবর্তক মোড়ে অবস্থিত ইসকন মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয় সবচেয়ে বড় রথযাত্রা। ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত শোভাযাত্রায় নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সের কয়েক হাজার ভক্ত অংশ নেন। রথটি গোলপাহাড়, মেহেদীবাগ, চট্টেশ্বরী, কাজীর দেউড়ি, জামালখান, আন্দরকিল্লা, লালদীঘি হয়ে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়। পুরো পথজুড়ে ভক্তরা রথের রশি টেনে ভগবান জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রার আশীর্বাদ কামনা করেন।
অন্যদিকে নন্দনকাননের ঐতিহ্যবাহী তুলসীধাম মদনমোহন মন্দিরকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় কেন্দ্রীয় রথযাত্রা। প্রায় তিন শতকের ঐতিহ্য বহনকারী এ আয়োজনে নগরের বিভিন্ন মঠ-মন্দিরের রথ একত্রিত হয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেয়। কক্সবাজার, রামু, টেকনাফ, মহেশখালী, উখিয়া, সীতাকুণ্ড, মীরসরাই, বাঁশখালী ও পার্বত্য এলাকার ভক্তরাও এতে যোগ দেন। সত্য সনাতন টিভি
কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠানের উদ্বোধনে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, রথযাত্রা এখন শুধু সনাতন সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি সব সম্প্রদায়ের মানুষের সম্প্রীতির বন্ধনে পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন চট্টগ্রামের সামাজিক সম্প্রীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ঐতিহ্যবাহী রথের পুকুরপাড় সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনা ও ধর্মীয় ঐতিহ্য রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। সত্য সনাতন টিভি
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতের সহকারী হাইকমিশনার শ্রী হরিশ কুমার, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী, কেন্দ্রীয় রথযাত্রা উদযাপন কমিটির সভাপতি হিরন্ময় ধরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
শোভাযাত্রা উপলক্ষে নগরজুড়ে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ, ট্রাফিক সদস্য, গোয়েন্দা ও সাদা পোশাকের সদস্য মোতায়েন করা হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণে কয়েকটি সড়কে সাময়িক ট্রাফিক ডাইভারশনও কার্যকর করা হয়। সিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, আয়োজক ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় পুরো অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয় তিথিতে ভগবান জগন্নাথ, বলদেব ও সুভদ্রা রথে চড়ে গুণ্ডিচা মন্দিরে গমন করেন। নির্ধারিত সময় শেষে উল্টো রথযাত্রার মাধ্যমে তাঁরা মূল মন্দিরে ফিরে আসে।