
কক্সবাজার জেলার পাহাড়ি দ্বীপ মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড ঠাকুরতলায় পবিত্র মৈনাক পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত শ্রী শ্রী আদিনাথ মন্দিরস্থ শ্রী শ্রী আদিনাথ রাম সীতা মন্দির আজ শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি এক দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও অদম্য ভক্তির জীবন্ত স্মারক। বহু প্রতিকূলতা, ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বাধা-বিপত্তির মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠিত এই মন্দির এখন ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের আদর্শ প্রচারের এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে পরিণত হয়েছে।
মন্দির সংশ্লিষ্টরা জানান, আজ যে পবিত্র মন্দিরে ভক্তদের সমাগম ঘটছে, তার পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।এই পবিত্র মন্দির প্রতিষ্ঠা সহজ কোনো পথের মাধ্যমে সম্ভব হয়নি। মন্দির প্রতিষ্ঠার পথ ছিল সংগ্রামময়। নানা ষড়যন্ত্র, অপপ্রচার ও বাধা সত্ত্বেও ভক্তদের অটল বিশ্বাস ও সৎ সাহসের কাছে সব বাধা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়েছে। এই মন্দির প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে সংশ্লিষ্টদের আইনি হয়রানি, সামাজিক অপমান এমনকি হাজতবাসের মতো কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবুও তারা ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের আদর্শকে বুকে ধারণ করে রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠা করেছেন এই পবিত্র মন্দির।
তাদের বিশ্বাস যেখানে সত্য, ধর্ম ও ন্যায়ের পক্ষে অটল অবস্থান থাকে, সেখানে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের কৃপা আর চির সেবক হনুমান এর ভক্তির শক্তি অবশ্যই বিরাজমান থাকে।
এই বিশ্বাস ও আদর্শকে সামনে রেখে মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের পবিত্র আবির্ভাব তিথি মহা রাম নবমী উপলক্ষে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এই মন্দিরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এক মহিমান্বিত ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
শ্রী শ্রী আদিনাথ রাম সীতা সেবক সংঘ ও মন্দির প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্যবৃন্দ জানান, যুগে যুগে যখন ধর্মের অবক্ষয় ও নৈতিকতার অবনতি ঘটে, তখন মানবজাতিকে সৎপথে পরিচালিত করার জন্য ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের আদর্শ নতুন করে স্মরণ করার প্রয়োজন দেখা দেয়। সত্য, ন্যায়, শৌর্য, ত্যাগ, করুণা ও ধর্মনিষ্ঠার এক অনুপম প্রতীক হলেন মর্যাদা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রী রামচন্দ্র।
এই মহতী উপলব্ধি থেকেই বাল্মীকি রামায়ণের চিরন্তন আদর্শ অনুসরণ করে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় আচার ও আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে সমাজে তাঁর নৈতিকতা, আদর্শ ও ধর্মময় জীবনবোধ পুনর্জাগ্রত করাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে শ্রী শ্রী আদিনাথ রাম সীতা সেবক সংঘ ও মন্দির প্রতিষ্ঠাতা কমিটির উদ্যোগে এবছরও ব্যাপক আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হবে মহা রাম নবমী পূজা ও মহোৎসব।
আয়োজনের মধ্যে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পর্বে থাকছে থাকছে:★রাম সঙ্গীতাঞ্জলী, বৈদিক নৃত্য, নটরাজ নৃত্য ও হরগৌরী নৃত্য, রামলীলা প্রদর্শনী, গীতা-মন্ত্র ও স্তোত্র পাঠ, ধর্মীয় কুইজ প্রতিযোগিতা।
এবং সমগ্র অনুষ্ঠানে থাকছে :★প্রাতঃকালীন উপাসনা,
★শাস্ত্রভিত্তিক ধর্মীয় আলোচনা সভা,★শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ★অধিবাস কীর্তন,★রাম ধ্বজা উত্তোলন,★মহা রাম নবমী পূজা এবং অষ্টপ্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ মহোৎসব।
ভক্তদের জন্য থাকবে মহাপ্রসাদ বিতরণ। পাশাপাশি মানবসেবাকে ধর্মসেবার বড় অংশ হিসেবে বিবেচনা করে আয়োজন করা হয়েছে ফ্রি চক্ষু চিকিৎসা সেবা। এই সেবা প্রদান করবেন রয়েল কমিউনিটি চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাক্টো সেন্টার-এর তত্ত্বাবধানে লায়ন ডা. নারায়ণ চন্দ্র নাথ-এর নেতৃত্বে দক্ষ চিকিৎসক দল।
মন্দির প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্নের কঠিন সময়ে প্রথমবারের মতো এই পবিত্র মন্দির প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়ে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের চরণে প্রার্থনা নিবেদন করেছিলেন পরম পূজ্যপাদ গুরুদেব শ্রীমৎ স্বামী দেবদীপানন্দ পূরী মহারাজ, যিনি সমগ্র অনুষ্ঠানের আশীর্বাদক হিসেবে থাকবেন।
সমগ্র অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করবেন: পন্ডিত শ্রী প্রিয়তোষ চক্রবর্তী, প্রধান পুরোহিত, শ্রী শ্রী আদিনাথ রাম সীতা মন্দির এবং বৈষ্ণব প্রবর শ্রী দুলাল গোস্বামী।
ধর্মীয় আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন: সোমনাথ চৈতন্য রুদ্রাক্ষ বাবাজি, প্রতিষ্ঠাতা, শ্রী শ্রী কালিয়াইশ লোকনাথ মন্দির, সাতকানিয়া, চট্টগ্রাম।
অধিবাস কীর্তন পরিবেশন করবেন: শ্রী বাবুল কৃষ্ণ দাশ ও তাঁর দল, লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম।
প্রতিষ্ঠাতা কমিটির নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, এই মহা রাম নবমী মহোৎসব শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি হবে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের আদর্শ, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের এক নতুন জাগরণের সূচনা।
উক্ত মহোৎসবে সকল ভক্তবৃন্দকে স্বপরিবারে ও স্ববান্ধবে উপস্থিত থেকে ভগবান শ্রী রামচন্দ্রের কৃপা লাভ এবং ধর্মীয় এই মহতী উদ্যোগকে সফল করার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানিয়েছেন শ্রী শ্রী আদিনাথ রাম সীতা সেবক সংঘ ও মন্দির প্রতিষ্ঠাতা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও সেবকবৃন্দ।