
ভারতের রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবত বলেছেন, বাংলাদেশে বসবাসরত হিন্দুরা যদি নিজেদের অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠিত হয়, তবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা হিন্দুরা তাদের পাশে দাঁড়াবে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) মুম্বাইয়ের ওয়ারলি এলাকার নেহরু সেন্টারে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বক্তব্য অনুষ্ঠান ‘ব্যাখ্যানমালা’-এর দ্বিতীয় দিনে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যমতে, আরএসএসের শতবর্ষ উপলক্ষে এই আয়োজন করা হয়েছে। এবারের আলোচনার শিরোনাম ছিল ‘সংঘের ১০০ বছরের যাত্রা: নতুন দিগন্ত’। সত্য সনাতন টিভি
মোহন ভাগবত বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ হিন্দু বসবাস করে। তারা যদি সেখানে থেকেই নিজেদের অধিকার আদায়ের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে বিশ্বজুড়ে থাকা হিন্দু সমাজ তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে দেশটির সরকার জনসংখ্যা পরিবর্তনের বিষয়ে যথেষ্ট উদ্যোগ নেয়নি। জন্মহার এবং অবৈধ অভিবাসনকে তিনি এ সমস্যার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। ভাগবতের দাবি, এখন সরকার পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে এবং তারা সফল হবে।
তিনি আরও বলেন, “ভারতকে আর দুর্বল করা যাবে না। যারা ভারতকে ভাঙার চেষ্টা করবে, তারা নিজেরাই ভেঙে পড়বে।” সত্য সনাতন টিভি
আরএসএসের অর্থের উৎস নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সংগঠনটি করপোরেট বা বড় প্রাতিষ্ঠানিক অনুদানের ওপর নির্ভর করে না। স্বয়ংসেবকদের কাছ থেকেই অর্থ সংগ্রহ করা হয়। সফরের সময় তারা হোটেলে না থেকে স্বয়ংসেবকদের বাড়িতে অবস্থান করেন বলেও জানান তিনি।
জাত ও নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ভাগবত বলেন, আরএসএসে কোনো জাতিগত বৈষম্য নেই। যে কেউ সংগঠনের প্রধান হতে পারে। তফসিলি জাতি বা উপজাতি হওয়া যেমন অযোগ্যতা নয়, তেমনি ব্রাহ্মণ হওয়াও কোনো বিশেষ যোগ্যতা নয়।
মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় কাজের কৌশল সম্পর্কে তিনি বলেন, সংঘর্ষ এড়িয়ে চলাই আরএসএসের নীতি। উত্তেজনার জবাব না দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা হয়।
এর আগের দিন শনিবার ভাগবত দাবি করেন, আরএসএস কারও বিরুদ্ধে নয় এবং ক্ষমতা দখলের উদ্দেশ্যেও কাজ করে না। সংগঠনটির মূল লক্ষ্য সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করা।