
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন্ন সরস্বতীপূজা উপলক্ষে টানানো শুভেচ্ছা বার্তাসংবলিত ব্যানার খুলে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা। গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি মঙ্গলবার সকালবেলা বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে, যখন শিক্ষার্থীরা দেখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এবং ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদসংলগ্ন সড়কে টানানো ব্যানার দুটি নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের সংগঠন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ সূত্রে জানা যায়, ২৩ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত সরস্বতীপূজা উপলক্ষে তাঁরা কয়েকটি স্থানে ব্যানার লাগিয়েছিলেন। কে বা কারা রাতের আঁধারে ব্যানার দুটি খুলে ফেলে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে মৌখিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল কার্যালয় ও এস্টেট দপ্তরে জানানো হয়েছে।
সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি কনক দাশ বলেন, ‘আমরা সরস্বতীপূজাকে কেন্দ্র করে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যানার টানিয়েছিলাম। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনকভাবে কেউ বা কারা রাতের আঁধারে সেগুলো খুলে ফেলেছে। গত বছরও এমন ঘটনা ঘটেছিল। এটি ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং ঘৃণ্য মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ দাবি করি। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই ক্যাম্পাসে সব ধর্মের জন্য সমান মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম জানান,‘সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীরা সিসিটিভি ফুটেজ দেখতে চেয়েছেন। যিনি এই সংক্রান্ত কাজ করেন, তিনি আজ অফিসে আসেননি। আগামীকাল তিনি এলে ফুটেজ দেখানো হবে। এখনো লিখিত অভিযোগ পাইনি।’
ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে শিক্ষার্থীরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, বারবার এমন ঘটনায় ধর্মীয় সহিষ্ণুতা ও সৌহার্দ্য বিনষ্ট হচ্ছে। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা আশা করছেন, সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রাখতে কর্তৃপক্ষ যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।