
নিজস্ব প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দিপু চন্দ্র দাসকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য (এমপি) টম মরিসন। এ ঘটনায় তিনি যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দিয়েছেন।
চিঠিতে টম মরিসন বলেন, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে সংঘটিত এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি নৃশংস অপরাধই নয়, বরং বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। তিনি ঘটনাটিকে “ভয়াবহ ও মর্মান্তিক” বলে উল্লেখ করেন।
টম মরিসনের চিঠিতে বলা হয়, নিহত দিপু চন্দ্র দাস একজন তরুণ গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ছিলেন। বিশ্বাসযোগ্য বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কর্মস্থলের বাইরে একদল উন্মত্ত জনতা তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। পরে তাঁর মরদেহ একটি গাছে ঝুলিয়ে আগুন দেওয়া হয়। এই নিষ্ঠুরতা দেশ–বিদেশে গভীর শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চিঠিতে আরও বলা হয়, প্রথমদিকে গুজব ছড়ানো হয়েছিল যে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ থেকে এই সহিংসতার সূত্রপাত। তবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দিপু দাস ধর্ম অবমাননামূলক কোনো মন্তব্য করেছেন এমন প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং পরবর্তী তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটির শুরু হয়েছিল একটি কর্মস্থল-সংক্রান্ত বিরোধ থেকে, যা পরে গুজব ও উসকানির মাধ্যমে সহিংস রূপ নেয়।
টম মরিসন তাঁর চিঠিতে অভিযোগ করেন, দিপু দাসকে প্রথমে নিরাপত্তার কথা বলে কর্মস্থল থেকে সরিয়ে নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তাঁকে ক্ষুব্ধ জনতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের গুরুতর ব্যর্থতা এবং কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপের অভাব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চিঠিতে যুক্তরাজ্যের হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেন এই এমপি। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যে বসবাসরত হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অনেকেরই বাংলাদেশে আত্মীয়স্বজন রয়েছে এবং সাধারণ বিরোধও কীভাবে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হাতিয়ার হয়ে উঠছে তা নিয়ে তারা আতঙ্কিত। “সত্য সনাতন টিভি”
বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে টম মরিসন বলেন, এই সম্পর্কের ভিত্তিতেই ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘু সুরক্ষা এবং সহিংস অপরাধের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্য সরকারের সক্রিয় কূটনৈতিক ভূমিকা প্রয়োজন। “সত্য সনাতন টিভি”
চিঠির শেষাংশে তিনি জানতে চান, দিপু দাস হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে যুক্তরাজ্য সরকার বাংলাদেশ সরকারের কাছে কী ধরনের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েছে এবং পূর্ণ ও স্বচ্ছ তদন্ত নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি, দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও আন্তর্জাতিক ফোরামে গণপিটুনি এবং সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ইস্যু কীভাবে উত্থাপন করা হচ্ছে সে বিষয়েও স্পষ্ট ব্যাখ্যা দাবি করেন তিনি।
এই ইস্যুতে যুক্তরাজ্যের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে যে গভীর উদ্বেগ ও কষ্ট তৈরি হয়েছে, সরকার তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এমন আশ্বাস প্রত্যাশা করেন টম মরিসন। “সত্য সনাতন টিভি”