
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অবস্থিত হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান শ্রীশ্রী চন্দ্রনাথ ধামের পাদদেশে গরু জবাই করে বনভোজন আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
গত ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ইংরেজি শনিবার সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম মহাতীর্থের অধীন ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় বনভোজনের আয়োজন করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর মাওলানা তাওহীদুল হক চৌধুরী। এ আয়োজনে প্রায় দেড় হাজার মানুষের সমাগম ঘটে বলে জানা গেছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার ছিদ্দিকী, উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মিজানুর রহমান, সেক্রেটারি মো. আবু তাহেরসহ উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতা, সাংবাদিক ও ব্যবসায়ীরাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন। “সত্য সনাতন টিভি”
স্থানীয়দের অভিযোগ, বনভোজন উপলক্ষে চন্দ্রনাথ ধামের অদূরে গরু জবাই করে সেই মাংস তীর্থভূমির নিকটবর্তী এলাকায় পরিবেশন করা হয়। একইসঙ্গে সেখানে আজান দেওয়া, নামাজ আদায় এবং ইসলামী সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, অনুষ্ঠানে কয়েকশ হিন্দু ভোটারকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। “সত্য সনাতন টিভি”
স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা জানান, পবিত্র তীর্থভূমির আশপাশে গরু জবাই ও ধর্মীয় কার্যক্রম দেখে তারা গভীরভাবে হতাশ ও আহত হয়েছেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তারা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানাতে সাহস পাননি।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, চন্দ্রনাথ ধামের অধীন বিভিন্ন জায়গা দীর্ঘদিন ধরে জোরপূর্বক দখল হয়ে আসছে। এসব জায়গায় প্রতি বছর শিব চতুর্দশী মেলায় সনাতনী ধর্মীয় সংগঠনগুলো সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করত। কিন্তু রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা এসব জায়গা দখল করে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। “সত্য সনাতন টিভি”
স্থানীয়দের দাবি, সীতাকুণ্ড স্রাইন কমিটি এসব দখলদারের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে না। বরং কমিটির বিরুদ্ধেই দীর্ঘদিন ধরে জমি বিক্রি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন নয় বলে উল্লেখ করে হিন্দু সমাজের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ধর্মীয় স্থান রক্ষায় সর্বস্তরের সনাতনী হিন্দুদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক ভক্ত বলেন,
“শুধু ধর্ম পালন করলেই ধার্মিক হওয়া যায় না, ধর্মের অস্তিত্ব রক্ষার্থে প্রতিবাদ করাটাও এক প্রকার ধর্ম। এখনই প্রতিবাদে না নামলে হাজার বছরের পুরোনো সীতাকুণ্ড চন্দ্রনাথ ধাম একদিন সনাতনীদের হাতছাড়া হয়ে যাবে।” “সত্য সনাতন টিভি”
ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।