
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সাম্প্রতিক শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, পবিত্র বাইবেল ও ত্রিপিটক থেকে পাঠ না হওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন সংবিধানে সকল নাগরিকের সমান অধিকারের কথা উল্লেখ থাকা সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয় আয়োজনে কেন সব ধর্মের গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হলো না।
বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২(ক)-এ রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম উল্লেখ রয়েছে। তবে একই অনুচ্ছেদে অন্যান্য ধর্ম শান্তিপূর্ণভাবে পালন করার সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি অনুচ্ছেদ ২৭-এ আইনের দৃষ্টিতে সকল নাগরিকের সমতার কথা এবং অনুচ্ছেদ ৪১-এ ধর্মীয় স্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত।
তবে সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, সংসদ সদস্যসহ বিভিন্ন সাংবিধানিক পদধারীদের জন্য শপথের নির্দিষ্ট ভাষা উল্লেখ আছে। সেখানে বলা হয়, “আমি সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ (বা দৃঢ় প্রত্যয়) করিতেছি যে…”। অর্থাৎ ‘শপথ’ বা ‘দৃঢ় প্রত্যয়’—দুটি বিকল্প রাখা হয়েছে। কোথাও নির্দিষ্ট কোনো ধর্মগ্রন্থ পাঠের বাধ্যবাধকতার কথা উল্লেখ নেই। সত্য সনাতন টিভি
সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শপথ গ্রহণ একটি সাংবিধানিক প্রক্রিয়া; এটি মূলত রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য ও দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার। কোনো ধর্মীয় আচার পালনের বিষয়টি সেখানে বাধ্যতামূলক নয়। ফলে শপথ অনুষ্ঠানে নির্দিষ্ট ধর্মগ্রন্থ পাঠ না হওয়া সংবিধান লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে না।
তবে ভিন্নমতও রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, বাংলাদেশ বহু ধর্মাবলম্বীর দেশ। রাষ্ট্রীয় আয়োজনে সব ধর্মের প্রতি প্রতীকী সম্মান প্রদর্শন করলে তা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি জোরদার করতে সহায়ক হতে পারে।
এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বিতর্কের মধ্যেই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে এসেছে রাষ্ট্রীয় শপথ অনুষ্ঠান কি কেবল সাংবিধানিক আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বহুধর্মীয় বাস্তবতার প্রতিফলনও সেখানে যুক্ত হবে। সত্য সনাতন টিভি