
প্রাচীন কাল ও মধ্যযুগীয় সময়ে মন্দিরকে কেবল পূজার স্থান হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনের কেন্দ্র হিসাবেও ব্যবহার করা হতো। তৎকালীন সমাজে মন্দির ভিত্তিক বিবাহ ছিল ধর্মীয়, সামাজিক এবং নৈতিক নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন হওয়া এক শুভ অনুষ্ঠান। বর-কনে মন্দিরে এসে অগ্নি, দেবতা এবং পূজারি-সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে বিবাহের শপথ গ্রহণ করতেন। এতে কেবল দাম্পত্যের সম্পর্কই স্থাপন হতো না, বরং সম্প্রদায়ের ঐক্য, ধর্মীয় নিয়মকানুনের সম্মান এবং সংস্কৃতির ধারাও সুসংহত হতো। “সত্য সনাতন টিভি”
এরপর উনিশ শতক ও বিশ শতকের শুরুতে উপনিবেশিক প্রভাব ও আধুনিক শিক্ষার কারণে মন্দির ভিত্তিক বিবাহ ধীরে ধীরে কমে যায়। বহু মানুষ তখন কমিউনিটি হল বা বাড়িতে বিবাহ করতে শুরু করে, তারপর ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে মন্দির ভিত্তিক বিবাহ প্রথা।
সাম্প্রতিক সময়ের একটি উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে চট্টগ্রাম জেলার সাতকানিয়া উপজেলার পদুয়া হরিমন্দির প্রাঙ্গণে সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন, চট্টগ্রাম জেলা টিমের সাংগঠনিক সম্পাদক সবুজ দাশ গুপ্ত বৈদিক প্রথা অনুযায়ী মন্দির ভিত্তিক বিবাহ করে দৃষ্টান্তর স্থাপন করেছেন। “সত্য সনাতন টিভি”
“যদিদং হৃদয়ং মম তদস্তু হৃদয়ং তব” বিবাহের এই শুভ মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে গত ৮ নভেম্বর ২০২৫ ইংরেজি রোজ শনিবার প্রজাপতি ব্রহ্মের আশীর্বাদ নিয়ে, অগ্নি দেবতাকে সাক্ষী রেখে, শাখা, সিন্দুর ও চন্দনের পবিত্রতায় এবং সনাতনী শানাইয়ের সুরে তিনি শ্রীমতি শ্রাবন্তী দত্তের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
এই সময় বিবাহ অনুষ্ঠানে বর-কনেকে আর্শিবাদ করতে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া কালিয়াইশ লোকনাথ মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা সোমনাথ রুদ্রাক্ষ বাবাজি, চন্দনাইশ রামঠাকুর-লোকনাথ সেবাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা: অজপানন্দ ব্রহ্মচারী,
এইছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম নাথ কল্যাণ সমিতির সভাপতি: ডাক্তার নারায়ণ দেব নাথ সহ উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, জাগো হিন্দু পরিষদ, রামসেবক সংগঠন এবং সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন এর বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতৃবৃন্দ ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। “সত্য সনাতন টিভি”
মন্দির ভিত্তিক বিবাহের মাধ্যমে সনাতনী সুশীল সমাজের নেতৃবৃন্দরা মনে করেন আধুনিকতার নামে কমিউনিটি সেন্টারে বিবাহ প্রথা বাদ দিয়ে মন্দির ভিত্তিক বৈদিক বিবাহ প্রথাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা জরুরি। তাদের মতে, এই প্রথা ধর্মীয় সংহতি ও ঐক্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। “সত্য সনাতন টিভি”
বর্তমান সময়ে এসে নতুন প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা মন্দির ভিত্তিক বিবাহকে গ্রহণ করে তাদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়কে আরও শক্তিশালী করছে, যা ভবিষ্যতের জন্য ঐতিহ্য রক্ষায় এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে উদ্ভাসিত হচ্ছে।