শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
উখিয়ায় গীতা শিক্ষা নিকেতনের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বিতরণ গোলপাহাড় মহাশ্মশানের নতুন কমিটিতে নেতৃত্বে আর. কে. দাশ রুপু ও রুবেল দে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সরস্বতী জ্ঞান মন্দিরে পঞ্চঘণ্টা স্থাপন ও উদ্বোধন গোলপাহাড় মন্দির কমিটির সব পদ থেকে আয়ান শর্মার পদত্যাগ হরিজন সম্প্রদায়ের প্রথম নারী গ্র্যাজুয়েট সনু রানী দাস বরিশালে সমকাল কার্যালয়ে সাংবাদিক পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার” চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে ব্যঙ্গের অভিযোগে সাংবাদিকের পোস্ট ভাইরাল মাদ্রাসা নিয়ে পোস্ট, তাতে আটক করা হলো স্কুলশিক্ষক নারায়ণ চন্দ্রকে কৌশিকী অমাবস্যার অন্তর্নিহিত শিক্ষা: অশুভের বিরুদ্ধে শুভশক্তির জাগরণ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মাতৃদেবী সন্ধ্যা রাণী ধরের পরলোকগমন, শেষ দর্শন থেকে বঞ্চিত ছেলে

অম্বুবাচী শুরু: প্রকৃতি, উর্বরতা ও আধ্যাত্মিক সাধনার প্রাচীন সনাতনী ঐতিহ্য

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ৮১ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদন : সৌরভ সাহা || রাঙ্গুনিয়া প্রতিনিধি 

নিজস্ব প্রতিবেদক: সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার অম্বুবাচী পর্ব শুরু হয়েছে। আষাঢ় মাসে পালিত এই বিশেষ সময়কে ঘিরে দেশের বিভিন্ন মন্দির, আশ্রম ও তীর্থস্থানে ভক্তদের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ভক্তি এবং আধ্যাত্মিক আবহ।

 

ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, অম্বুবাচী কালে ধরিত্রী মাতা ঋতুমতী হন এবং নতুন সৃষ্টির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। এ কারণে এই সময়কে প্রকৃতির পুনর্জাগরণ ও উর্বরতার প্রতীক হিসেবে দেখা হয়। প্রচলিত রীতিনীতির অংশ হিসেবে অম্বুবাচীর তিন দিন অনেক মন্দিরে নিয়মিত পূজা-অর্চনায় পরিবর্তন আনা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে মন্দিরের প্রধান দ্বারও বন্ধ রাখা হয়। নির্ধারিত সময় শেষে বিশেষ পূজা, স্নান ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পুনরায় মন্দিরের দ্বার উন্মুক্ত করা হয়।

 

শাস্ত্রবিদদের মতে, ‘অম্বুবাচী’ শব্দটি সংস্কৃত ভাষা থেকে উদ্ভূত। ‘অম্ব’ অর্থ জল এবং ‘বাচী’ অর্থ বৃদ্ধি বা বিকাশ। গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহের পর বর্ষার স্নিগ্ধ জলে সিক্ত হয়ে যখন প্রকৃতি নতুন জীবন ও উর্বরতার জন্য প্রস্তুত হয়, সেই সময়কালকেই অম্বুবাচী নামে অভিহিত করা হয়।

 

অম্বুবাচী উপলক্ষে বিভিন্ন তীর্থ ও মন্দিরে ভক্তদের সমাগম বৃদ্ধি পায়। এ সময় মন্দির থেকে বিতরণ করা ‘রক্তবস্ত্র’কে অনেক ভক্ত অত্যন্ত পবিত্র ও শুভ প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করেন। তাদের বিশ্বাস, এই পবিত্র স্মারক আধ্যাত্মিক কল্যাণ, মঙ্গল এবং মনোবাসনা পূরণে সহায়ক।

 

ধর্মীয় তাৎপর্যের পাশাপাশি অম্বুবাচীর সঙ্গে কৃষি সংস্কৃতিরও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। প্রাচীনকাল থেকেই এই সময়ে জমিতে চাষাবাদ বন্ধ রাখার প্রথা প্রচলিত। পৃথিবীকে মাতৃরূপে কল্পনা করে বিশ্বাস করা হয়, এ সময় ধরিত্রী বিশ্রাম গ্রহণ করেন এবং বর্ষার জলে সিক্ত হয়ে নতুন ফসল উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হন। অম্বুবাচী পর্ব শেষ হওয়ার পর পুনরায় কৃষিকাজ শুরু করা হয়।

 

এ সময় বহু সাধু-সন্ন্যাসী, ব্রহ্মচারী ও ভক্ত বিশেষ ব্রত ও সাধনায় অংশ নেন। অনেকে রান্না করা খাবার পরিহার করে ফলমূল ও সহজপাচ্য আহার গ্রহণ করেন। প্রার্থনা, জপ, ধ্যান ও আত্মশুদ্ধির মধ্য দিয়ে তারা এই সময় অতিবাহিত করেন।

 

ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিশ্লেষকদের মতে, অম্বুবাচী কেবল একটি ধর্মীয় আচার নয়; এটি নারীত্ব, সৃষ্টিশীলতা, উর্বরতা এবং প্রকৃতির চিরন্তন পুনর্জাগরণের প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা এই ঐতিহ্য আজও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় জীবন, সংস্কৃতি ও বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে সমান শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে পালিত হয়ে আসছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews