
আজ ১৪ জানুয়ারী বুধবার পৌষ সংক্রান্তি। বাংলা সনের নবম মাস পৌষের শেষ দিনটি ঘিরে বাঙালি সমাজে ধর্মীয় আচার, লোকজ উৎসব ও পিঠা-পুলির আয়োজন দেখা যায়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, এদিন সূর্য ধনু রাশি ত্যাগ করে মকর রাশিতে প্রবেশ করে। সে কারণে পৌষ সংক্রান্তিকে মকর সংক্রান্তিও বলা হয়।
হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনটি স্নান, দান, জপ ও পূজার জন্য বিশেষ পুণ্যফলদায়ক। পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগণার সাগরদ্বীপে আজ শুরু হয়েছে বিশ্ববিখ্যাত গঙ্গাসাগর মেলা। ভোর থেকেই লাখো পুণ্যার্থী সাগরসঙ্গমে স্নান করে কপিলমুনির আশ্রমে পূজা দেন। শাস্ত্র মতে, এই তিথিতে গঙ্গাস্নান ও দান করলে পাপ মোচন হয়।
যাঁদের পক্ষে গঙ্গাসাগরে যাওয়া সম্ভব নয়, তাঁরা নিকটবর্তী নদী বা জলাশয়ে স্নান করে ধর্মীয় আচার পালন করছেন। গ্রামবাংলায় এ উপলক্ষে বাস্তু পূজা, নতুন ধানের পূজা এবং লোকাচারভিত্তিক নানা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
পৌষ সংক্রান্তি মানেই ঘরে ঘরে পিঠা-পুলির আয়োজন। নতুন চাল ও খেজুরের গুড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে ভাপা পিঠা, পাটিসাপটা, চিতই, দুধ পুলি, মুগ পুলি ও ছিট পিঠা। অনেক এলাকায় কুমারী মেয়েদের টুসু পূজা, পালাগান ও লোকসংগীতের আসর বসেছে।
নগর জীবনেও উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। শান্তিনিকেতনের আদলে বিভিন্ন স্থানে পৌষমেলার আয়োজন করা হয়েছে। এসব মেলায় লোকশিল্প, হস্তশিল্প, পিঠা-পায়েস ও খেজুরের রস বিক্রি হচ্ছে। পুরান ঢাকায় দিনভর ঘুড়ি ওড়ানো এবং সন্ধ্যার পর ফানুস ও আতশবাজির আয়োজন লক্ষ্য করা গেছে।
সংস্কৃতিবিদদের মতে, পৌষ সংক্রান্তি কেবল ধর্মীয় উৎসব নয়; এটি বাঙালির কৃষিভিত্তিক জীবনধারা, প্রকৃতির প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সামাজিক বন্ধনের প্রতিফলন। আধুনিক নগরজীবনে হারিয়ে যেতে বসা লোকজ ঐতিহ্যকে নতুন করে তুলে ধরার ক্ষেত্র হিসেবেও এই উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।