
আজ ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম মহান বিপ্লবী, চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের নায়ক মাস্টারদা সূর্য সেনের প্রয়াণ দিবস। দিনটি উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রণাম জানিয়েছে সামাজিক ও সেবামূলক সংগঠন ভক্তি পরায়ণ সুদর্শন পরিষদ
এক বিবৃতিতে সংগঠনটি জানায়, মাস্টারদা সূর্য সেন ছিলেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তিনি শুধু একজন বিপ্লবী নন, বরং ছিলেন স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী এক নির্ভীক নেতা, যাঁর আদর্শ ও ত্যাগ ভারতীয় উপমহাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মাস্টারদা সূর্য সেনের নেতৃত্বে ১৯৩০ সালের ১৮ এপ্রিল সংঘটিত ঐতিহাসিক চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠন ব্রিটিশ শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল। এই দুঃসাহসিক অভিযানের মাধ্যমে তিনি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। তাঁর নেতৃত্বে তরুণ বিপ্লবীরা জীবনবাজি রেখে স্বাধীনতার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
সংগঠনটি আরও জানায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর ১৯৩৩ সালে মাস্টারদা সূর্য সেন ব্রিটিশদের হাতে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে নির্মম নির্যাতনের শিকার করা হয়। অবশেষে ১৯৩৪ সালের এই দিনে চট্টগ্রাম কারাগারে তাঁকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী। তবে তাঁর মৃত্যু স্বাধীনতার আন্দোলনকে থামাতে পারেনি; বরং তাঁর আত্মত্যাগ দেশপ্রেমিকদের অনুপ্রেরণা হয়ে যুগে যুগে প্রেরণা জুগিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, মাস্টারদা সূর্য সেনের সাহস, দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগ আজও জাতির চেতনায় অম্লান। তিনি প্রমাণ করেছেন, অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আত্মবলিদানই পারে ইতিহাস বদলে দিতে। তাঁর আদর্শ বর্তমান প্রজন্মের জন্য পথনির্দেশক হয়ে আছে।
প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে ভক্তি পরায়ণ সুদর্শন পরিষদ–এর পক্ষ থেকেও মাস্টারদা সূর্য সেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে দেশ, সমাজ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা বলেন, মাস্টারদা সূর্য সেন স্বাধীনতার এক অবিনশ্বর প্রতীক। তাঁর জীবন ও সংগ্রাম নতুন প্রজন্মকে ন্যায়, সাহস ও দেশপ্রেমের পথে চলতে অনুপ্রাণিত করে।
মহান এই বিপ্লবীর প্রয়াণ দিবসে জাতি স্মরণ করছে তাঁর অমর আত্মত্যাগকে—
মাস্টারদা সূর্য সেনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রণাম।