
গোপালগঞ্জ-৩ নির্বাচনী এলাকায় চরম অস্থিতিশীল ও ভীতিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে অভিযোগ তুলেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক। তিনি দাবি করেছেন, নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতেই তার সমর্থকদের ওপর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের হামলা ও হুমকি শুরু হয়েছে, যার ফলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক অভিযোগ করেন, বিএনপির কর্মীরা পরিকল্পিতভাবে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। তিনি বলেন, “আমার একনিষ্ঠ সমর্থকদের টার্গেট করে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হচ্ছে এবং এলাকা ছাড়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে নির্বাচনী পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
স্বতন্ত্র এই প্রার্থী জানান, তার রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকার কারণে তাপস হালদার নামে এক সমর্থককে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার অভিযোগ, “আমার জন্য নমিনেশন ফরম কিনতে যাওয়ার সময়ই তাপস হালদারকে আটক করা হয়। এটি স্পষ্টভাবে নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন এবং সমর্থকদের মনোবল ভাঙার অপচেষ্টা।”
এলাকার পরিস্থিতি এতটাই থমথমে হয়ে উঠেছে যে অন্য সম্ভাব্য প্রার্থীরাও এখন আতঙ্কে রয়েছেন বলে দাবি করেন গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্তত আরও দুইজন প্রার্থী নির্বাচন করার আগ্রহ প্রকাশ করলেও বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় তারা শেষ পর্যন্ত নমিনেশন ফরম কিনতে সাহস পাননি। তার দাবি, এই আসনে এখন মুক্তভাবে মত প্রকাশের পরিবেশ নেই।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, গোপালগঞ্জ-৩ আসনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যেন তারা নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে অংশ না নেন। এমনকি সংবাদ সংগ্রহে আসা সাংবাদিকরাও হুমকির মুখে পড়ছেন। গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিক বলেন, “সাংবাদিক পরিচয়ে গেলেও আমার লোকজনকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এই এলাকা নিয়ে যেন কোনো প্রতিবেদন না করা হয়।”
এমন পরিস্থিতিতে সুষ্ঠু তদন্ত ও ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্বতন্ত্র এই প্রার্থী। তার মতে, অবিলম্বে গ্রেফতার ও হুমকি বন্ধ না হলে এই আসনে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
এ বিষয়ে স্থানীয় থানা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।”সত্য সনাতন টিভি”
গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতি এখন পুরো জেলায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সাধারণ ভোটাররা একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ নির্বাচনী পরিবেশের প্রত্যাশায় দিন গুনছেন।