
দুবলারচরের আলোরকোলে অনুষ্ঠিত রাসপূর্ণিমা ও রাসমেলা মানেই যেন এক শ্রেণির শিকারিদের জন্য হরিণ নিধনের মৌসুম। প্রতিবছর এই উৎসব ঘিরে বেড়ে যায় হরিণ শিকার ও বন্যপ্রাণী হত্যার মতো নৃশংস কার্যক্রম। এ বছরও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে সুন্দরবনের কোকিলমনি টহল ফাঁড়ির হোন্দল এলাকার পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে শরণখোলা স্মার্ট টিম।
অভিযান চলাকালে বনাঞ্চল জুড়ে পায়ে হেঁটে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ১০০টি ফাঁদ, আটক করা হয় ০৭ জন আসামি এবং ০২টি ট্রলার জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত ফাঁদ, ট্রলার ও অন্যান্য মালামাল (আলামত)সহ আটককৃত আসামিদের বর্তমানে বাগেরহাটে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্র।
স্থানীয়রা জানায়, রাসপূর্ণিমা উপলক্ষে প্রতিবছর সুন্দরবনের দুবলারচর এলাকায় হাজার হাজার ভক্ত-দর্শনার্থী সমবেত হন। এই সুযোগে একদল অসাধু চক্র গভীর বনের ভেতরে ঢুকে হরিণ শিকারে মেতে ওঠে। তবে এবার বন বিভাগের টানা নজরদারি ও দ্রুত অভিযানের ফলে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পেয়েছে বনের বন্যপ্রাণী।
বন বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান,
“সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক আছি। রাসমেলা চলাকালীন সময়ে শিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
উৎসবের আমেজে প্রকৃতি ও প্রাণ বাঁচানোর এই লড়াই যেন চলমান থাকে-এটাই সকলের প্রত্যাশা।