
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে সমাজসেবা, পরিবেশ ও মানবাধিকার সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া হল সংসদের ছাত্রী পূর্ণিমা রাধে। বিজয়ের পর তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে শপথ গ্রহণ করেন এবং নিজের অবস্থান ও নীতি সম্পর্কে স্পষ্ট বার্তা দেন।
পূর্ণিমা রাধে বলেন, “আমি কোনো ধর্মীয় প্রতিনিধি নই, কোনো ধর্মবিরোধীও নই। কোনো ধর্মীয় গ্রুপ বা সংগঠনের পদেও আমি নেই। আমাকে ধর্মীয় বা অন্য কোনো অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ করলে অতিথি হিসেবে উপস্থিত হই, কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমি তাদের দলের সদস্য।”
তিনি আরও বলেন,“সেই অনুষ্ঠান ইসলাম, হিন্দু, বৌদ্ধ বা যেকোনো ধর্ম কিংবা দলের হতে পারে। আমি একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি, এখনো কোনো দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নই। তাই কেউ আমাকে দলীয় ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করবেন না।”
সমাজসেবা ও মানবাধিকারের পক্ষে সোচ্চার থাকার অঙ্গীকার জানিয়ে পূর্ণিমা রাধে বলেন, “আপনি যতই ক্ষমতাধর হোন না কেন, অন্যায় করলে আমি অবশ্যই প্রতিবাদ করবো।”
সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন,“আমার সাথে কারো কোনো ঝামেলা নেই। চাইলে খবর নিয়ে দেখুন, কোথাও বিন্দুমাত্র দোষ পাবেন না। হিংসা, মিথ্যা অহংকার, লোভ, উগ্রতা, দ্বিচারিতা—এসব আমার চরিত্রে নেই এবং কখনো থাকবে না।”
তিনি বিশ্বাস করেন, তার শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে শুধু বিজয়ের সময় নয়, যেকোনো পরিস্থিতিতে পাশে থাকবেন। “আমি চার বছর ধরে দিনরাত নিজের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করেছি। এখন আরও বেশি মনোযোগ দেবো নিজের দায়িত্বে। কে কি বলছে বা করছে, তা দেখার সময় আমার নেই,” বলেন পূর্ণিমা রাধে।
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আমার দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে পালন করবো। বিশ্ববিদ্যালয় ও হল সংসদের গঠনতন্ত্রের প্রতি অবিচল আস্থা রেখে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষায় সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবো।”
সবশেষে তিনি মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “মহান সৃষ্টিকর্তা আমাকে এই শপথ রক্ষা ও দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের শক্তি দিন।”