
নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
দেশের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ২ লাখ ৫৬ হাজার ৭৪ জন ধর্মীয় নেতা ও কর্মীকে রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চলতি অর্থবছরে ৮৬ হাজার ৭০৯টি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানকে এ কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এ জন্য বাজেটে ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (১০ আগস্ট) এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি মাসেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিত ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমের পাশাপাশি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজক ও সহকারী যাজকেরাও মাসিক সম্মানী পাবেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কর্মসূচির আওতায় থাকবে ৮২ হাজার ৬৫৬টি মসজিদ, ৩ হাজার মন্দির, ৭৫২টি বৌদ্ধবিহার এবং ৩০১টি গির্জা।
কীভাবে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন হবে
চলতি অর্থবছরে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে প্রতিটি ইউনিয়নে ১৫টি করে মসজিদ নির্বাচন করা হবে। পৌরসভায় শ্রেণিভেদে প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে নির্দিষ্টসংখ্যক মসজিদকে এ সুবিধার জন্য বাছাই করা হবে। ‘ক’ শ্রেণির ওয়ার্ডে চারটি, ‘খ’ শ্রেণিতে তিনটি এবং ‘গ’ শ্রেণির ওয়ার্ডে দুটি মসজিদ নির্বাচিত হবে। সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে ছয়টি মসজিদ এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।
মন্দির নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রতিটি উপজেলা থেকে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান বাছাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ‘ক’ শ্রেণির পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দুটি এবং অন্যান্য শ্রেণির পৌরসভা থেকে একটি করে মন্দির নির্বাচন করা হবে। এর বাইরে ইউনিয়ন পর্যায় থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী মন্দির নির্বাচন করা হবে।
অন্যদিকে, বৌদ্ধবিহার ও গির্জা জেলা অনুযায়ী ২৫ শতাংশ হারে নির্বাচন করা হবে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।
মাসে কে কত টাকা পাবেন
নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রধান ধর্মীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জন্য মাসিক সম্মানী নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার টাকা। এ হারে মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত, বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং গির্জার যাজকেরা সম্মানী পাবেন।
মসজিদের মুয়াজ্জিন, মন্দিরের সেবাইত, বৌদ্ধবিহারের উপাধ্যক্ষ এবং গির্জার সহকারী যাজকের মাসিক সম্মানী হবে ৩ হাজার টাকা। আর মসজিদের খাদেম পাবেন মাসে ২ হাজার টাকা।
ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্মানীর অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের ব্যাংক হিসাবে ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার বা ইএফটির মাধ্যমে পাঠানো হবে।
নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অংশ হিসেবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য নিয়মিত সম্মানী ও প্রশিক্ষণভিত্তিক কল্যাণ ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে গঠিত সংশ্লিষ্ট সেলের সভায় চলতি অর্থবছরে প্রতিষ্ঠান নির্বাচন এবং সম্মানী বিতরণের কাঠামো চূড়ান্ত করা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ও সেলের সভাপতি মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ সভাপতিত্ব করেন। এতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সংসদ সদস্য ও হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সারসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও সেলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের কল্যাণ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।