
পটুয়াখালীর বাউফলে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন এক কৃষক। মঙ্গলবার (দুপুর) উপজেলার নদীবেষ্টিত চরওয়াডেল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত কৃষকের নাম মো. ফিরোজ গাজী (৪০)। তিনি উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরওয়াডেল গ্রামের বাসিন্দা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত উজ্জল কর্মকার (৪০) উপজেলার কালাইয়া এলাকার বাসিন্দা। সত্য সনাতন টিভি
স্থানীয় বাসিন্দা ও আহতের স্বজনদের দাবি, ফিরোজ গাজী তরমুজ চাষ করেন। বেশ কিছুদিন ধরে তাঁর কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন বড় ডালিমা গ্রামের মিজানুর রহমান (৪৫)। মঙ্গলবার দুপুরে ফিরোজ তাঁর খেত থেকে তরমুজ তুলছিলেন। এ সময় মিজানুরের নেতৃত্বে ৮ থেকে ১০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে তরমুজ তুলতে বাধা দেন।
তাঁদের দাবি ছিল, জমিটি তাঁদের এবং টাকা না দিলে তরমুজ তোলা যাবে না। এতে অস্বীকৃতি জানালে ফিরোজকে এলোপাতাড়ি মারধর ও কুপিয়ে জখম করা হয়। সত্য সনাতন টিভি
ফিরোজের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে অভিযুক্তদের ধাওয়া দেন। পরে মিজানুর রহমান, উজ্জল কর্মকার ও শামীম নামে তিনজনকে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে চন্দ্রদ্বীপের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে সোপর্দ করা হয়।
পরে আহত অবস্থায় তাঁদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে উজ্জল কর্মকারের মৃত্যু হয় বলে জানান চিকিৎসকেরা। অপর দুইজনের মধ্যে মিজানুর প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং শামীমকে বরিশাল পাঠানো হয়েছে।
বাউফল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা নাঈম শাকির জানান, হাসপাতালে আনার আগেই উজ্জল কর্মকার মারা যান। সত্য সনাতন টিভি
তবে অভিযুক্ত মিজানুর রহমান চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, জমিটি তাঁদের এবং জমির বিষয়ে সমাধান করতে বলায় উল্টো ফিরোজ ও তাঁর লোকজন তাঁদের ওপর হামলা চালান।
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, কৃষককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।