
ঊনবিংশ শতকের ভারতীয় ধর্মীয় ও দার্শনিক চিন্তাজগতে এক অনন্য নাম রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব। তিনি শুধু একজন যোগসাধক বা ধর্মগুরু নন, বরং ধর্মীয় সহিষ্ণুতা, মানবপ্রেম ও আত্মঅনুসন্ধানের এক জীবন্ত প্রতীক। তাঁর জীবন ও দর্শন আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।
১৮৩৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার কামারপুকুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। পূর্বাশ্রমে তাঁর নাম ছিল গদাধর চট্টোপাধ্যায়। পিতা ক্ষুদিরাম চট্টোপাধ্যায় ও মাতা চন্দ্রমণি দেবী ছিলেন দরিদ্র ব্রাহ্মণ পরিবারের সদস্য। শৈশব থেকেই গদাধরের মধ্যে ছিল আধ্যাত্মিকতার প্রতি গভীর আকর্ষণ।
রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জুড়ে রয়েছে দক্ষিণেশ্বর কালীবাড়ি। সেখানেই তিনি দেবী কালীকে ‘মা’ হিসেবে উপলব্ধি করতে শুরু করেন। ক্রমে তাঁর ভাবতন্ময়তা গভীরতর হয় এবং তিনি বিভিন্ন ধর্মীয় সাধনায় আত্মনিয়োগ করেন।
তাঁর দর্শনের অন্যতম মূল কথা “যত মত, তত পথ”। এই দর্শনের মাধ্যমে তিনি মানবজাতির জন্য এক অসাধারণ বার্তা রেখে যান। হিন্দুধর্মের পাশাপাশি তিনি ইসলাম ও খ্রিস্টধর্মের সাধনাও অনুশীলন করেন এবং উপলব্ধি করেন, সকল ধর্মই একই সত্যের দিকে মানুষকে নিয়ে যায়। সত্য সনাতন টিভি
রামকৃষ্ণ পরমহংস দেবের প্রধান শিষ্য ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দ। গুরুদেবের আদর্শ ও বাণীকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন রামকৃষ্ণ মিশন। এই প্রতিষ্ঠান শিক্ষা, সেবা ও মানবকল্যাণের মাধ্যমে আজও রামকৃষ্ণের দর্শন বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। সত্য সনাতন টিভি
১৮৮৬ সালের ১৬ আগস্ট রামকৃষ্ণ পরমহংস দেব পরলোকগমন করেন। তবে তাঁর জীবনাবসান তাঁর প্রভাবের সমাপ্তি ঘটাতে পারেনি। তাঁর বাণী ও দর্শন আজও মানুষকে আত্মশুদ্ধি, সহিষ্ণুতা ও মানবতার পথে অনুপ্রাণিত করে চলেছে।