
চট্টগ্রাম নগরীতে এক স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পরিবারের অভিযোগ, ১০ বছর বয়সী ওই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ঘরের ভেতরে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ঘটনার পর র্যাব অভিযানে দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
র্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, ০৮ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার সকালে নগরীর লালখান বাজার এলাকা থেকে দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন প্রদীপ লাল ঘোষ (৫২) ও অজয় সিংহ (২৫)। তারা উভয়েই ওই এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জানুয়ারি চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন লালখান বাজার টাংকির পাহাড় এলাকার একটি বাসা থেকে শ্রাবন্তী ঘোষ (১০) নামে এক শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। তাদের গ্রামের বাড়ি সাতকানিয়া উপজেলায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শ্রাবন্তীর বাবা তপন ঘোষ সিইপিজেড এলাকায় কর্মরত এবং যাতায়াতের সুবিধার জন্য সেখানেই ভাড়া থাকেন। আর তার মা রোজি ঘোষ পোশাক কারখানায় কাজ করায় মেয়েকে নিয়ে লালখান বাজার এলাকায় একটি কলোনিতে বসবাস করতেন। ওই কলোনির মালিক ছিলেন গ্রেপ্তার হওয়া প্রদীপ লাল ঘোষ। পাশের ঘরের ভাড়াটিয়া ছিলেন অজয় সিংহ। সত্য সনাতন টিভি
র্যাব জানায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় শ্রাবন্তী তার দাদুর বাসায় গিয়েছিল। রাত ১১টার দিকে সে একাই নিজের বাসায় ফিরে আসে। তখন তার মা কর্মস্থলে ছিলেন। রাত পৌনে ১২টার দিকে পরিবারের লোকজন তাকে খুঁজতে গিয়ে দরজা খোলা অবস্থায় ঘরের ভেতরে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে লাশ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে নগরীর বলুয়ার দিঘীর পাড় শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। প্রথমে ঘটনাটি অপমৃত্যু হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। সত্য সনাতন টিভি
তবে কয়েকদিন পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে খুলশী থানায় ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় গ্রেপ্তার দুইজনসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
শিশুটির বাবা তপন ঘোষ সত্য সনাতন টিভিকে বলেন, “আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তার পা মাটির কাছাকাছি ছিল। এমন অবস্থায় আত্মহত্যা সম্ভব নয়। সে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বাড়ির মালিক ও পাশের ভাড়াটিয়ারা প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় থাকত এবং ছোট মেয়েদের উত্যক্ত করত।”
খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহেদুল ইসলাম জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।