
চট্টগ্রাম জেলার রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া থানাধীন বিভিন্ন এলাকায় গভীর রাতে একাধিক বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত মোঃ মনির হোসেনকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ।
সাম্প্রতিক এসব অগ্নিসংযোগের প্রতিটি ঘটনাস্থল থেকে বিশেষ ধরনের উসকানিমূলক ব্যানার উদ্ধার করা হয়। ব্যানারগুলো ANCOR ব্র্যান্ডের মটর ভূষিসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্লাস্টিকের বস্তা দিয়ে তৈরি ছিল। এতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টে উস্কানিমূলক বক্তব্যের পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তির নাম ও মোবাইল নম্বর উল্লেখ ছিল। সত্য সনাতন টিভি
ঘটনাগুলোর রহস্য উদঘাটন ও দোষীদের গ্রেফতারে পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), রাউজান থানা ও রাঙ্গুনিয়া থানা যৌথভাবে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের একপর্যায়ে প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে গত ২ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি দুপুর আনুমানিক সাড়ে ১২ ঘটিকায় রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলার কলেজ গেট এলাকা থেকে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত প্রধান আসামি মোঃ মনির হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর তার বসতঘর তল্লাশি করে ANCOR ব্র্যান্ডের মটর ভূষির তিনটি খালি প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়, যা ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত ব্যানারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। সত্য সনাতন টিভি
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আসামি স্বীকার করেন, উদ্ধারকৃত ব্যানারে উল্লিখিত একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তার পূর্বশত্রুতা ছিল। একই সঙ্গে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যও তিনি পুলিশকে দিয়েছেন।
জানা যায়, মোঃ মনির হোসেন পূর্বে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকায় বসবাস করতেন এবং পরবর্তীতে রাঙ্গামাটির কলেজ গেট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। তার বিরুদ্ধে রাঙ্গামাটির লংগদু ও চট্টগ্রামের রাউজান থানায় চুরি ও মাদকসহ মোট চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি চুরি মামলায় তিনি ছয় মাসের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছিলেন।
প্রাথমিক তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ, উদ্ধারকৃত আলামত ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ ধারণা করছে—পূর্বশত্রুতা ও ব্যক্তিগত ক্ষোভের জের ধরে পরিকল্পিতভাবে মানুষের বসতঘরে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ ঘটনার মাধ্যমে একদিকে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্টের অপচেষ্টা, অন্যদিকে শত্রুপক্ষের ওপর দায় চাপানোর ষড়যন্ত্র করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।