
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক কান্তজীউ মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় অশালীন, ব্যঙ্গাত্মক ও ধর্মীয় অনুভূতিবিরোধী নৃত্যসহ বিভিন্ন অনুপযুক্ত কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে জেলা রাজদেবোত্তর এস্টেটের কাছে আবেদন জানিয়েছে সচেতন সনাতনী সমাজ। সম্প্রতি মেলার নামে অসঙ্গতিপূর্ণ অনুষ্ঠান ও ভিডিও নির্মাণে স্থানীয় ভক্ত–সমাজের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে এ উদ্যোগ নেয়া হয়।
আবেদনপত্রে বলা হয়, মেলা ও মন্দিরের সব কার্যক্রম যেন সনাতন ধর্মীয় বিধান, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও পবিত্রতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে পরিচালিত হয় সেজন্য জেলা প্রশাসন ও রাজদেবোত্তর কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৮ নভেম্বর কান্তজীউ মন্দির চত্বরে সচেতন সনাতনী সমাজের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রতিবাদী আলোচনা সভা। সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, মেলার নামে অশালীন উপস্থাপনা শুধু মন্দিরের পবিত্রতা নষ্ট করছে না, স্থানীয় জনগণের ধর্মীয় অনুভূতিতেও আঘাত করছে। বক্তারা আরও বলেন, কান্তজীউ মন্দির শুধু একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়, এটি সনাতনী সমাজের আধ্যাত্মিক কেন্দ্র। তাই এখানে কোনোভাবেই অনুপযুক্ত কার্যক্রম চলতে দেওয়া যাবে না।
প্রতিবাদী সভা শেষে দুপুরের পর প্রতিনিধি দল জেলা রাজদেবোত্তর এস্টেটের এজেন্ট রনজিৎ কুমার সিংহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পাঁচ দফা দাবি পেশ করে। প্রতিনিধি দল জানায়, মন্দিরের শৃঙ্খলা, শান্তি ও ধর্মীয় পরিবেশ অটুট রাখতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে সনাতনী সমাজ।
পাঁচ দফা দাবি গুলো হলো,
১. মেলা ও মন্দির কার্যক্রম পর্যবেক্ষণে স্থায়ী মনিটরিং সেল গঠন।
২. অশালীন, ব্যঙ্গাত্মক ও ধর্মীয় অনুভূতিবিরোধী ভিডিও নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা।
৩. মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় নিরাপত্তা বৃদ্ধি, স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ ও কঠোর তদারকি।
৪. দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে বিশুদ্ধ পানি, আধুনিক শৌচাগার ও স্নানের ব্যবস্থা।
৫. মন্দির–সংক্রান্ত অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছাত্র–যুবসমাজের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং অভিযোগ বক্স স্থাপন।
এতো স্বাক্ষর করেন, শ্রী সুরেন রায় (কাহারোল), জয়ন্ত চন্দ্র দেবশর্মা (কাহারোল), দীপক রায় (কাহারোল)।
শ্রী তন্ময় রায়, শ্রী শিবু দেবশর্মা, শ্রী সৌন্দর্য রায় (কাহারোল), শ্রী হিতিকেশ রায় (খানসামা), শ্রী অনুপ চক্রবর্তী (দিনাজপুর), শ্রী রথিন কুমার দাস (বোচাগঞ্জ), শ্রী রনি রায় (বীরগঞ্জ), শ্রী কৃষ্ণ গোপাল রায় (বোচাগঞ্জ), শ্রী রমেন দেবশর্মা, শ্রী সিন্ধু রায় সহ আরও অনেকে।
কান্তজীউ মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষায় এ উদ্যোগকে স্থানীয়রা স্বাগত জানিয়েছেন। সনাতনী সমাজের দাবি এসব অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম বন্ধ করে মন্দিরকে তার মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।