
কুমিল্লার প্রায় চার শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহাসিক জগন্নাথ মন্দিরের দখলকৃত জমি উদ্ধারে প্রশাসনের উদ্যোগে অভিযান পরিচালিত হয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিচালিত এই অভিযানে মোট ৬ শতক জমি উদ্ধার করা হয়।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে মন্দিরের মালিকানায় প্রায় ১২০ একর জমি ছিল। সময়ের সাথে নানা দখলদারিত্ব ও অব্যবস্থাপনার কারণে জমির পরিমাণ কমে বর্তমানে মাত্র ২০ একরে এসে দাঁড়িয়েছে। তারা দখল হয়ে যাওয়া বাকি জমি উদ্ধারেও প্রশাসন ও সরকারের সহায়তা কামনা করেন। “সত্য সনাতন টিভি”
অভিযানের সময় দখলকৃত স্থানে বসবাসকারী কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, “আমরা প্রায় ৭০ বছর ধরে এখানে বসবাস করছি। কোনো নোটিশ না দিয়েই আমাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে।”
মরহুম আব্দুল গফুরের পরিবারের সদস্যরা জানান, “আমাদের পূর্বপুরুষদের সময় থেকেই আমরা এখানে আছি। জমি নিয়ে মামলা চলমান, কিন্তু হঠাৎ আগাম ঘোষণা ছাড়া উচ্ছেদ করা হলো।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতা এডভোকেট তাপস বকসি বলেন, “এটি চার শত বছরের পুরোনো মন্দির এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংরক্ষিত কীর্তি। মন্দিরের ঐতিহ্য রক্ষায় দখলমুক্তকরণ জরুরি ছিল।”
অভিযানে নেতৃত্বদানকারী এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তানজিনা জাহান বলেন, “জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি। আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করেই জমি উদ্ধার করা হয়েছে।” “সত্য সনাতন টিভি”
মন্দিরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জিপি এডভোকেট তপন বিহারী নাথ অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, “আদালতের রায় অনুযায়ী অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এটি মন্দিরের মর্যাদা পুনঃস্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
প্রশাসন জানিয়েছে, দখলকৃত জমি উদ্ধারের বিষয়ে আদালতে আরও কয়েকটি মামলা চলমান রয়েছে। পরবর্তী ধাপেও আইনি প্রক্রিয়ায় ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করা হবে। “সত্য সনাতন টিভি”