
নিজস্ব প্রতিবেদক :
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার শ্রী শ্রী প্রভু জগদ্বন্ধু মহাউদ্ধারণ মঠ প্রাঙ্গণে মাঙ্গলিক পরিবেশে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার রাখের উপবাস ও ঘৃত প্রদীপ প্রজ্জ্বলন উৎসব ২০২৫।
গত শনিবার সকালে ঘট স্থাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় দিনব্যাপী এই পবিত্র অনুষ্ঠান। সকাল থেকেই শতাধিক ভক্ত উপবাস পালন করে ভক্তিমূলক ভাব ও সমর্পণের মাধ্যমে অংশ নেন উৎসবে। “সত্য সনাতন টিভি”
সন্ধ্যায় শুরু হয় ঘৃত প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠান। অসংখ্য প্রদীপের আলোয় মঠ প্রাঙ্গণ আলোকিত হয়ে ওঠে, আর ভক্তদের নামসঙ্কীর্তনে অনুরণিত হয় গোটা পরিবেশ। উপস্থিত ভক্তরা প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অন্তরের অশান্তি দূর করে শ্রী শ্রী লোকনাথ ব্রহ্মচারী বাবার কৃপা কামনা করেন। “সত্য সনাতন টিভি”
উৎসব উপলক্ষে আয়োজন করা হয় শিব স্নান, লোকনাথ বাবার পূজা, নামসঙ্কীর্তন ও ভক্তিমূলক সংগীত পরিবেশনা। পূজা পরিচালনা করেন শ্রী মিঠুন চক্রবর্তী, নামসঙ্কীর্তন পরিচালনা করেন শ্রী কৌশিক সাহা, এবং সঞ্চালনায় ছিলেন শ্রী সৌমেন সাহা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রী রাজীব সাহা, শ্রী অর্ণব মাল্লিকসহ অসংখ্য ভক্ত ও অনুসারী।
হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকনাথভক্তরা বিশ্বাস করেন, বিপদ-আপদ ও রোগবালাই থেকে মুক্তির আশায় রাখের উপবাস পালন করলে লোকনাথ বাবা তাদের রক্ষা করেন। ১৫ কার্তিকের পর মাসের প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বিকেল ৪টার পর এ ব্রত পালনের প্রচলন রয়েছে। “সত্য সনাতন টিভি”
এই ব্রতের মূল শিক্ষায় রয়েছে সংযম, মনোব্রত ও ঈশ্বরস্মরণ। উপবাসের আগের দিন সংযম পালন করা হয়, এরপর ধূপ-প্রদীপ নিয়ে আরাধনায় বসা হয়। প্রদীপ জ্বালানো থেকে নিভে যাওয়া পর্যন্ত নীরবে লোকনাথের নাম ধ্যান করার নির্দেশ রয়েছে। প্রদীপ নিভে গেলে মন্দির থেকে প্রদত্ত চালকলা পুণ্যার্থীরা গ্রহণ করেন, যা আশীর্বাদস্বরূপ মনে করা হয়।
ইতিহাস অনুসারে, ১৮৯০ সালের আগে নারায়ণগঞ্জের বারদীতে লোকনাথ বাবার জীবদ্দশায় এই ব্রতের উৎপত্তি ঘটে। গুটি বসন্তের প্রাদুর্ভাবকালে বাবার ভবিষ্যদ্বাণী ও দেবদেবীর আগমনসংক্রান্ত ঘটনাই রাখের উপবাসের সূত্রপাত। “সত্য সনাতন টিভি” পরবর্তীতে লোকনাথ বাবা নিজেই বলেন “১৫ কার্তিকের পরের শনি ও মঙ্গলবার বিকেল ৪টার পরে তোমরা ব্রত করবে।” ”
এ থেকেই ব্রতটি পরিচিতি পায় ‘রাখের উপবাস’, ‘গোসাইয়ের উপবাস’ বা ‘কার্তিক ব্রত’ নামে। বিশ্বাস করা হয়, যিনি ভক্তি ও নিষ্ঠার সাথে এই ব্রত পালন করেন, লোকনাথ বাবা তাঁর মনের বাসনা পূর্ণ করেন।
যেমনটি তিনি নিজেই বলেছেন “রণে বনে জলে জঙ্গলে, যখনই বিপদে পড়িবে, আমাকে স্মরণ করিবে, আমিই রক্ষা করিব।” “সত্য সনাতন টিভি”