
আজ কার্তিক অমাবস্যা তিথি। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘দীপাবলি’ ও ‘শ্যামাপূজা’ আজ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে।
আলোর উৎসব দীপাবলি অন্ধকারের বিরুদ্ধে আলোর, মন্দের বিরুদ্ধে ভালোর এবং অজ্ঞতার বিরুদ্ধে জ্ঞানের চিরন্তন জয়ের প্রতীক। এই দিনটিতে ঘরে ঘরে প্রদীপ, আলোকসজ্জা ও পূজার মাধ্যমে মা লক্ষ্মী ও দেবী কালীর আরাধনা করা হয়। বাড়িঘর, মন্দির ও পূজামণ্ডপে প্রদীপের সারি যেন ছড়িয়ে দিয়েছে ঐশ্বরিক আলোর জ্যোতি।
‘দীপাবলি’ শব্দের অর্থই হলো— “প্রদীপের সারি”। এই দিন মানুষ বিশ্বাস করে, প্রদীপের আলো অমঙ্গল ও অন্ধকার দূর করে সৌভাগ্য ও জ্ঞানের পথ উন্মুক্ত করে। উপনিষদের বাণী :
অসতো মা সত্ গময়। তমসো মা জ্যোতির্গময়। মৃত্যোর্মা অমৃতং গময়। ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ ওঁ শান্তিঃ॥
অর্থাৎ,অসত্য থেকে সত্যে, অন্ধকার থেকে আলোর পথে, মৃত্যু থেকে অমরত্বের দিকে যাত্রা করাই দীপাবলির মূল দর্শন।
আজই অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেবী শ্যামা বা কালী পূজা— শক্তি, প্রলয় ও মুক্তির প্রতীক দেবী কালীর আরাধনা। শাস্ত্র মতে, দেবী কালী হলেন দুর্গারই ক্রোধরূপ— অশুভ শক্তি দমন ও ধ্বংসের মাধ্যমে শুভের প্রতিষ্ঠার প্রতীক।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আজ মহাধুমধামে কালীপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। রাজধানীর পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার ও সূত্রাপুর এলাকাসহ রমনা কালীমন্দির, মা আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দির এবং বরদেশ্বরী কালীমাতা মন্দিরে পূজার আয়োজন হয়েছে।
অনেক স্থানে শ্মশানকালী পূজারও বিশেষ আয়োজন দেখা গেছে, কারণ লোকবিশ্বাস অনুযায়ী দেবী কালী শ্মশানের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।
দীপাবলির শুভক্ষণে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রার্থনা করছেন, যেন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে শান্তি, প্রেম ও মানবতার আলো।