
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার দোহাজারী পৌরসভার দেবকুলস্থ কেন্দ্রীয় তপোবন আশ্রমে আগামী ১০ মার্চ থেকে চার দিনব্যাপী ৬২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন শুরু হচ্ছে। শ্রীশ্রী পরমহংস মহাযোগী শ্রীমৎ স্বামী সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরু মহারাজ প্রতিষ্ঠিত এই আশ্রমে ঋষি পরম্পরায় আয়োজন করা হয়েছে নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠান।
উৎসবের প্রধান আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে মহতী ধর্মসভা, শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞ এবং ষোড়শপ্রহরব্যাপী শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন। আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জগতের মঙ্গল ও মানুষের মধ্যে সৌহার্দ্য ও একতার প্রতিফলন ঘটাতে এই আধ্যাত্মিক আয়োজন করা হয়েছে। শ্রীশ্রী যোগী শ্রীমৎ স্বামী প্রাঞ্জলানন্দ পুরী মহারাজের পরিচালনায় উৎসবকে ঘিরে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ বিরাজ করছে।
প্রথম দিন, ১০ মার্চ, ব্রহ্মমুহূর্তে ধ্বজা উত্তোলন ও সমবেত উপাসনার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সূচনা হবে। বিকেল ২:০১ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে ভক্তিমূলক গানের অনুষ্ঠান ‘তপোবন সংগীত’, এবং সন্ধ্যা ৫:০১ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যারতি ও সমবেত উপাসনা। সন্ধ্যা ৫:৩০ মিনিটে আয়োজিত হবে স্বামী সুরেশ্বরানন্দ পুরী গুরু মহারাজের জীবনাল্লেখ্য বিষয়ক আলোচনা সভা। রাত ১০:০১ মিনিটে শুরু হবে শ্রীশ্রী গীতা হোমযজ্ঞ ও শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তনের শুভ অধিবাস।
১১ মার্চ সকাল ৮:৩১ মিনিটে হবে গুরু মহারাজের সমাধি অলঙ্করণ, ৯:৩১ মিনিটে গীতা হোমযজ্ঞের মঙ্গলঘট স্থাপন ও যজ্ঞের শুভারম্ভ। দুপুর ১২:০১ মিনিটে আয়োজিত হবে দীক্ষাদান অনুষ্ঠান এবং ১:০১ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে গুরু মহারাজের রাজভোগ ও মহাপ্রসাদ আস্বাদন। বিকেল ৫:০১ মিনিটে হবে গীতা হোমযজ্ঞের পূর্ণাহুতি এবং রাত ১০:০১ মিনিটে বিতরণ করা হবে মহাপ্রসাদ।
১২ মার্চ চলবে দিনব্যাপী শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তন। এদিন দুপুর ১২:০১ মিনিটে দীক্ষাদান এবং ১:০১ মিনিটে রাজভোগ ও মহাপ্রসাদ আস্বাদনের আয়োজন থাকবে। সন্ধ্যা ৬:৩১ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে সন্ধ্যারতি ও সমবেত উপাসনা।
১৩ মার্চ ঊষালগ্নে সমবেত উপাসনার মাধ্যমে শ্রীশ্রী পূর্ণব্রহ্ম হরিনাম সংকীর্তনের পূর্ণাহুতি দেওয়া হবে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বমঙ্গল প্রার্থনা ও ধ্বজা অবতারণের মাধ্যমে চার দিনব্যাপী এই ধর্মীয় আয়োজনের সমাপ্তি।
উৎসবে অংশ নেবে দেশবরেণ্য সংকীর্তন দলসমূহ, যার মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রামের গোপাল বাড়ি সম্প্রদায়, পটিয়ার জয় জগন্নাথ সম্প্রদায়, ভোলার শ্রীশ্রী বৈষ্ণব নারায়ণ দে সম্প্রদায়, নোয়াখালীর সমাধি আশ্রম সম্প্রদায় এবং ভোলার শ্রীশ্রী প্রভু নিত্যানন্দ সম্প্রদায়।
আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম শহর থেকে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল অথবা কর্ণফুলী সেতুর নতুন ব্রিজ থেকে কক্সবাজারগামী বাসে দোহাজারীতে নেমে সিএনজি বা টেম্পু যোগে প্রায় ৫ কিলোমিটার পূর্বে আশ্রমে পৌঁছানো যাবে।
কমিটি সকল ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীদের জাতি, ধর্ম বা বর্ণ নির্বিশেষে এই আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় অংশগ্রহণের জন্য আন্তরিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।