
চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সনাতনি জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসসহ মোট ৩৯ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।
আজ ১৯ জানুয়ারি সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হক মামলার অভিযোগ গঠন করেন। এ সময় ট্রাইব্যুনালে চিন্ময় দাসসহ ২৩ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। বাকি ১৬ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন। সত্য সনাতন টিভি
মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। তিনি বলেন, এটি একটি সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা, আইনজীবী সমাজ, বিচারপ্রার্থী জনগণ এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
শুনানিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সকাল পৌনে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম কারাগার থেকে চিন্ময় দাসসহ ২৩ আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানির শুরুতে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ পড়ে শোনান। এ সময় চিন্ময় দাসের পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট অপূর্ব কুমার ভট্টাচার্য তাকে মামলা থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান, যার বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে চিন্ময় দাস নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রায় ২৫ মিনিট ধরে আদালতে নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। সত্য সনাতন টিভি
পলাতক ১৬ আসামির পক্ষে আইনজীবী হিসেবে অ্যাডভোকেট দুলাল চন্দ্রনাথ বক্তব্য দেন। এছাড়া উপস্থিত অন্যান্য আসামিদের মধ্যে তিনজন আদালতে সরাসরি নিজেদের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২ ফেব্রুয়ারি নির্ধারণ করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালত ভবন এলাকায় চিন্ময় দাসের জামিনকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত আলিফের বাবা জামাল উদ্দিন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। সত্য সনাতন টিভি
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ জুন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, তৎকালীন সিএমপির কোতোয়ালি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুর রহমান আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীসহ মোট ৩৯ জনকে আসামি করা হয়। গত মাসে মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে বিচার উপযোগী বিবেচনায় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।