
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলায় একটি হিন্দুপাড়ায় ধারাবাহিক অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। উপজেলার ওয়াহেদপুর ইউনিয়নের জাফরাবাদ এলাকার ওই হিন্দুপাড়ায় গত এক সপ্তাহে মন্দির, বসতঘর ও খড়ের গাদাসহ অন্তত সাতটি স্থানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
সবশেষ গত বৃহস্পতিবার মৃদুল নামে এক বাসিন্দার ঘরে আগুন দেওয়া হলে ঘরের একটি অংশ পুড়ে যায়। এতে পরিবারের কাপড়চোপড় ও আসবাব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন পাড়ার মানুষ। অনেকেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন এবং কয়েকটি স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
এলাকাবাসীর ধারণা, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে ভয়ভীতি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তাদের অভিযোগ, হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের আতঙ্কিত করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত রাখতেই এই অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে।
এর আগেও চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে। গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে টানা ৫০ দিনে সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ১২টি বাড়িতে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। কয়েকটি ঘটনায় ঘরের ভেতরে মানুষ থাকা অবস্থায় দরজায় তালা লাগিয়ে আগুন দেওয়ার অভিযোগও পাওয়া যায়।
গতকাল সরেজমিনে জাফরাবাদ হিন্দুপাড়ায় গিয়ে দেখা যায়, মাতৃমন্দিরে বার্ষিক মহোৎসব উপলক্ষে প্রস্তুতি চলছে। বাইরে স্বাভাবিক ব্যস্ততা থাকলেও মানুষের চোখেমুখে স্পষ্ট আতঙ্ক।
মন্দির কমিটির সভাপতি বাবুল ধর জানান, ২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় প্রথম অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তপন ধরের বাড়ির ব্যক্তিগত মন্দিরের পাশে রাখা শুকনো পাতার বস্তায় আগুন দেওয়া হয়। এতে মন্দিরের ভেতরে থাকা সোলার ব্যাটারি ও অন্যান্য জিনিস পুড়ে যায়। পরদিন ভোরে অমিও ধরের বাড়ির খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। এরপর একের পর এক দিন বিভিন্ন বাড়িতে খড়, রান্নাঘর ও শুকনো পাতায় আগুন লাগানো হয়। সত্য সনাতন টিভি
সবশেষ ঘটনার বর্ণনা দিয়ে মৃদুলের স্ত্রী তমালিকা সাহা বলেন, দুপুরের দিকে তিনি ঘরে একা ছিলেন। হঠাৎ বারান্দার সামনে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে আগুন নেভান। সে সময় ঘরে বিদ্যুৎও ছিল না।
এলাকাবাসী রাম ধর জানান, প্রথম কয়েকটি ঘটনার পর পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়। পুলিশ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এলাকা পরিদর্শন করলেও এখনো আগুন দেওয়ার ঘটনা বন্ধ হয়নি।
পাড়ার আরেক বাসিন্দা বিপাশ চৌধুরী বলেন, প্রতিটি ঘটনা দিনের বেলায় ঘটেছে। মানুষ কাজের ব্যস্ততায় থাকার সুযোগ নিচ্ছে দুর্বৃত্তরা। তাই এখন গ্রামে রাতে পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
মিরসরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদা ইয়াছমিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছেন। কারা এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা জানার চেষ্টা চলছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোমাইয়া আক্তার বলেন, বিষয়টি জানার পর থানার ওসির সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও অবহিত করা হয়েছে।