
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের নবনির্মিত রবীন্দ্র ভবনের সামনে শ্রীশ্রী সরস্বতী দেবীর ভাস্কর্য স্থাপনের জন্য চূড়ান্ত প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে এ সংক্রান্ত অনুমতিপত্র জারি করা হয়েছে, যা সনাতন ছাত্রসমাজের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত একটি দাবি পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ হলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে সরস্বতী দেবীর ভাস্কর্য স্থাপনের আবেদন দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বিবেচনায় ছিল। এ বিষয়ে জগন্নাথ হল প্রশাসন, হল প্রভোস্ট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক দফা আলোচনা ও নথি উপস্থাপন করা হয়।
অনুমতিপত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৩০ আগস্ট জগন্নাথ হল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আবেদনসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নোটিশ প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে বিষয়টি মাননীয় উপাচার্যের নিকট পাঠানো হলে তিনি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করেন এবং প্রয়োজনীয় মতামত প্রদান করেন। সব দিক বিবেচনায় নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশেষে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে জগন্নাথ হলের নবনির্মিত রবীন্দ্র ভবনের সামনে “শ্রীশ্রী সরস্বতী দেবী”এর ভাস্কর্য স্থাপনের অনুমোদন প্রদান করেন।
প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তর থেকে জারিকৃত চিঠিতে আরও জানানো হয়, অনুমোদিত স্থান ব্যতীত অন্য কোথাও ভাস্কর্য স্থাপন করা যাবে না এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান নীতিমালা ও কাঠামোগত নিরাপত্তা বজায় রেখে ভাস্কর্য স্থাপন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে।
এ বিষয়ে সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতৃবৃন্দ বলেন, এটি শুধু একটি ভাস্কর্য স্থাপনের অনুমতি নয় বরং সনাতন সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও ধর্মীয় সহাবস্থানের প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতির একটি ঐতিহাসিক অর্জন। তারা জানান দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ, যুক্তিনির্ভর ও সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমেই এই অনুমোদন আদায় সম্ভব হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, জ্ঞান ও বিদ্যার দেবী সরস্বতীর ভাস্কর্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি জগন্নাথ হলের ঐতিহ্য ও বহুত্ববাদী সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে মনে করছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, অনুমতিপত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী (জোন -২) স্বাক্ষর করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অনুমোদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি লক্ষ্য করা গেছে।