
আজ সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা উপলক্ষে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল লালবাগ যুব কিশোর সংঘের উদ্যোগে এশিয়া মহাদেশে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হলো দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের পূজা। এই মহতী আয়োজনের বিশেষত্ব হলো, একই মণ্ডপে মোট ১৭টি মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন রূপ এবং একটিতে মূল প্রতিমা।
প্রতিটি রূপে মা সরস্বতী মানুষের চেতনাকে আলোকিত করার নানা দিক ফুটিয়ে তুলেছেন। কোথাও তিনি জ্ঞান ও প্রজ্ঞার প্রদীপ, কোথাও অজ্ঞতা ও বিভ্রম বিনাশের শক্তি, আবার কোথাও সৃজনশীলতা, সংগীত ও মানবিকতার প্রতীক।
দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
১. গৌরী রূপ: জ্ঞান, মেধা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধি।
২. মানবী রূপ: মানবজাতির কল্যাণ ও প্রজ্ঞাবৃদ্ধি।
৩. সরবাস্ত্রমহাজ্বালা রূপ: সমগ্র বিদ্যা ও জ্ঞান বহন।
৪. মানসী রূপ: মন ও বিবেক আলোকিত।
৫. মহাকালী রূপ: অজ্ঞতা ও অসত্য ধ্বংস।
৬. বজ্রশৃঙ্খলা রূপ: অজ্ঞতার শৃঙ্খলা ভেঙে শক্তি প্রদানের প্রতীক।
৭. কুলি শাঙ্কুশা রূপ: বিদ্যা-বুদ্ধি ও সংযমের অধিষ্ঠাত্রী।
৮. মহামানব রূপ: নৈতিকতা ও জ্ঞান বৃদ্ধি।
৯. প্রজ্ঞপ্তী রূপ: সঠিক জ্ঞান ও বিবেক প্রদান।
১০. চকেশ্বরী রূপ: জ্ঞান ও শক্তির সমন্বয়।
১১. কালী রূপ: বিভ্রম ও অজ্ঞতা বিনাশ।
১২. পুরুষ দত্তা ভারতীয় রূপ: ভাষা, বাগ্মী শক্তি ও বুদ্ধি জাগ্রত।
১৩. বৈরাট্যা রূপ: শক্তি, তেজ ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি।
১৪. মোহিনী রূপ: জ্ঞান ও সৃজনশীলতা বিকাশ।
১৫. গান্ধারী রূপ: সংগীত, কলা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি।
১৬. আচ্ছুপ্তা রূপ: মায়া ও অজ্ঞতা দূর করে অন্তর্দৃষ্টি বৃদ্ধি।
প্রতিটি মূর্তি আলাদা গল্প বলার মতো, মানুষের মন, বিবেক ও বুদ্ধিকে আলোকিত করার উদ্দেশ্য বহন করছে। দর্শনার্থীরা নিপুণ কারুকাজ, রঙের ব্যবহার ও ভাবনার গভীরতায় মুগ্ধ হয়েছেন। সত্য সনাতন টিভি
লালবাগ যুব কিশোর সংঘের সভাপতি কৌশিক দত্ত ও উপদেষ্টা প্রান্ত মিশ্র সত্য সনাতন টিভিকে জানান, “এশিয়ায় প্রথমবার আমরা দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করেছি। দর্শনার্থীদের ভীড়ই প্রমাণ যে এই আয়োজন হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।”
সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মণ্ডপে দর্শনার্থীরা উপচে পড়া ভিড়ে দেবী সরস্বতীর এই ব্যতিক্রমী প্রদর্শনী উপভোগ করেন।