
ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার ঢেউখালি ঘোষপাড়া এলাকায় প্রায় ১২০ বছরের পুরনো শ্রী শ্রী সর্বজনীন রাধা–কৃষ্ণ মন্দিরের জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের সদরপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর পরিচিত মহাদেব ঘোষ তাঁর মালিকানাধীন ৪৬ শতাংশ জমি বাবুল ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করেন। সেই জমির অংশে ছিল পুরোনো রাধা–কৃষ্ণ মন্দিরটি। জমি বিক্রির পর মহাদেব ঘোষ মন্দিরটি অন্যত্র সরিয়ে নেন। “সত্য সনাতন টিভি”
এতে এলাকাবাসীর একজন, নন্দ ঘোষ, এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানান। তাঁর দাবি, মন্দিরের জমিটি বহু আগেই কেদারনাথ গোপ ও গিরীন্দ্র চন্দ্র গোপ দান করেছিলেন এবং এটি ব্যক্তিগত মালিকানার নয়। তিনি ও কয়েকজন হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ মিলে পুনরায় মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মহাদেব ঘোষের ছেলে জয়দেব ঘোষ জাল দলিল তৈরি করে মন্দিরের জমি পরিবারের নামে নিয়ে পরে সেটি বাবুল ব্যাপারীর কাছে বিক্রি করেছেন। এ নিয়ে নন্দ ঘোষ থানায় অভিযোগও দায়ের করেছেন।
১৬ নভেম্বর ২০২৫ ভোররাত চারটার দিকে জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছে যায়। অভিযোগ, বাবুল ব্যাপারীসহ স্থানীয় কয়েকজন সংঘবদ্ধভাবে জমি দখলের চেষ্টা করলে নন্দ ঘোষপক্ষ বাধা দেয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। “সত্য সনাতন টিভি”
এতে নন্দ ঘোষ, শিখা রানী মালো, বাসন্তী রানী মালো, স্বদেপ মালো ও গৌতম ঘোষ গুরুতর আহত হন। আরও কয়েকজন সামান্য আহত হন।
আহতদের পরিবার অভিযোগ করেছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। পরিবারগুলোর দাবি, হামলাকারীরা পুনরায় আক্রমণ চালাতে পারে তাই তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। “সত্য সনাতন টিভি”
ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হচ্ছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন। তারা সবাইকে সতর্ক থাকার এবং কোনো ধরনের যাচাইবাছাইহীন তথ্য শেয়ার না করার অনুরোধ জানান।