
হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী সরস্বতী দেবী বিদ্যা বাক্ ও প্রজ্ঞার অধিষ্ঠাত্রী দেবী।যাঁর উল্লেখ বেদ ও পুরাণ উভয় শাস্ত্রেই রয়েছে।অতএব সরস্বতী দেবীকে শুধুমাত্র পৌরাণিক দেবী বলা যায় না তিনি বৈদিক দেবী।
শাস্ত্রের দৃষ্টিতে তাঁর উপাসনা মানেই সংযম নীরবতা ও শুদ্ধ চেতনা।এই প্রেক্ষিতে সরস্বতী পূজায় উচ্চ শব্দে সাউন্ড সিস্টেম ও আনন্দ উল্লাস কতটা সঙ্গত সে প্রশ্ন এখন নবীন প্রবীণ সকলের মনে।ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সরস্বতী পূজা সম্পর্কে কতটুকু শাস্ত্রসম্মত ধারণা আমাদের বর্তমান প্রজন্মের কাছ থেকে পাচ্ছে তা আমরা হয়তো ভেবেও দেখি না। সত্য সনাতন টিভি
চলুন জেনে নিই দেবী সরস্বতী সম্পর্কে শাস্ত্র কী বলে-
★ঋগ্বেদে সরস্বতীকে বলা হয়েছে বুদ্ধি ও চেতনার প্রেরণাদাত্রী:
প্র বোধয়া সরস্বতী ধীনাম্ অবিত্র্য অবতু
(ঋগ্বেদ ৭.৯৫.২)
অর্থ:হে সরস্বতী তুমি আমাদের বুদ্ধিকে জাগ্রত করো
আমাদের চিন্তা ও প্রজ্ঞাকে রক্ষা করো।
এই মন্ত্রে কোথাও উন্মত্ততা বা কোলাহলের ইঙ্গিত নেই
বরং আছে চিন্তা বুদ্ধি ও প্রজ্ঞার শুদ্ধতা
★উপনিষদীয় ভাবধারায়(তৈত্তিরীয় উপনিষদ ২.৪)
বলা হয়েছে:
যেখানে বাক্ ও মন সংযত হয়ে ফিরে আসে সেই স্থানই ব্রহ্মচেতনার ক্ষেত্র।
অর্থাৎ নীরবতা ও সংযমই উচ্চতর জ্ঞানের পথ
কিন্তু বর্তমানে আমরা যে পূজার আয়োজন করি সেখান থেকে আমাদের মন কী নিয়ে ফিরে আসে তা নিজেই চিন্তা করুন।শাস্ত্রে সঙ্গীত আছে কিন্তু কী ধরনের?
শাস্ত্রে সরস্বতীর যন্ত্র হলো বীণা যা মৃদু সুরেলা ও সাত্ত্বিক ধ্বনির প্রতীক।নাট্যশাস্ত্র বলছে:
সাত্ত্বিক রসই বিদ্যা ও শাস্ত্রচিন্তার উপযোগী
রাজসিক ও তামসিক উচ্ছ্বাস সেখানে প্রতিবন্ধক।
অতএব পূজায় ভক্তিগীতি শ্লোকপাঠ আবৃত্তি এগুলো সাত্ত্বিকের অন্তর্গতকিন্তু বিকট শব্দ ডিজে উচ্ছৃঙ্খল নৃত্য এগুলো তামসিক ও রাজসিক যা দেবীর পূজার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয় বরং দেবীর অপমানের সমতুল্য।
সরস্বতী পূজা ইভেন্ট নয় উপাসনা।উল্লাসের দিন নয় চেতনা শুদ্ধির দিন।উন্মাদনার নয় সংযমের উৎসব।
যেখানে বিদ্যার আরাধনা সেখানে উচ্ছৃঙ্খলতা আরাধনার পরিপন্থী।
সকল সমাজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পূজা কমিটিগুলোকে সচেতন হতে হবে সরস্বতী পূজাকে সাংস্কৃতিক শালীনতা ও শাস্ত্রসম্মত মর্যাদায় উদযাপন করা হোক আনন্দ থাকুক কিন্তু সংযমের সীমা অতিক্রম না করেই। সকলে চেষ্টা করলে হয়তো ভবিষ্যত প্রজন্মকে ভালো কিছু উপহার দেওয়া যাবে।