
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের ঐতিহ্যবাহী যশোরেশ্বরী কালীমন্দির-এ দেবীর মুকুট চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় অবশেষে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপপরিদর্শক মাসুদ পারভেজ গত ১৭ মার্চ দুইজনকে অভিযুক্ত করে এ অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিষয়টি সম্প্রতি অনলাইনে প্রকাশ্যে এসেছে।
অভিযোগপত্রে যাদের নাম রয়েছে তারা হলেন শ্যামনগরের ঈশ্বরীপুর গ্রামের বাসিন্দা রেখা সরকার (৪০) এবং ঢাকার কদমতলীর সম্রাট ফারুখ মাওলা (৪২)। তদন্তে অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ায় আরও চারজনকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালে নরেন্দ্র মোদী বাংলাদেশ সফরে এসে এই মন্দিরে পূজা দেন এবং দেবীর জন্য একটি সোনার মুকুট উপহার দেন। পরে ২০২৪ সালের ১০ অক্টোবর দুপুরে মন্দির থেকে সেই মুকুটটি চুরি হয়। সত্য সনাতন টিভি
তদন্তে উঠে আসে, মন্দিরের পরিচ্ছন্নতাকর্মী রেখা সরকার দুই লাখ টাকার প্রলোভনে মন্দিরের তালা খুলে রেখে চুরিতে সহযোগিতা করেন। তার স্বীকারোক্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আল আমিন ওরফে স্বপনকে মূল অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তাকে এখনো শনাক্ত করা যায়নি। একই সঙ্গে সম্রাট ফারুখ মাওলার সংশ্লিষ্টতার কথাও উঠে আসে।
ঘটনার পর বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তিকে আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে কয়েকজন জামিনে মুক্তি পান, তবে সম্রাট ফারুখ মাওলার জামিন আবেদন নাকচ হয় এবং তিনি এখনো কারাগারে রয়েছেন। সত্য সনাতন টিভি
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মামলায় মোট ১৫ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত চুরি হওয়া মুকুটটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সাতক্ষীরা আদালত সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১০ জুন নির্ধারিত তারিখে আদালতে অভিযোগপত্র উপস্থাপন করা হবে।
উল্লেখ্য, মুকুটটির প্রকৃত ধাতব গঠন সোনা নাকি রুপার ওপর সোনার প্রলেপ নিয়ে শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে।