
মহেশখালী উপজেলার আদিনাথ ঠাকুরতলা গ্রামে শিবকল্পতরু শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ ও অচ্যুতানন্দন পূরী মহারাজ প্রবর্তিত স্বার্বজনীন শ্রী শ্রী হরি মন্দির প্রাঙ্গণে মাঘী পূর্ণিমা উপলক্ষে ৫৭তম মহতী ধর্মসভা ও ষোড়শ প্রহরব্যাপী মহানামযজ্ঞ মহোৎসব অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই ধর্মীয় আয়োজন ১৭–২০ মাঘ (৩১ জানুয়ারি–৩ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত চলবে।
উক্ত মহোৎসবের দ্বিতীয় দিন, ১৯ মাঘ (২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার), মহোৎসব প্রাঙ্গণে উপস্থিত থেকে দীক্ষা প্রদান করবেন শ্রীমৎ স্বামী দেবদীপানন্দ পূরী মহারাজ (মোহন্ত মহারাজ, তুলসীধাম, নন্দনকানন ও অধিপতি ঋষিধাম, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম)। স্থানীয়রা জানান, প্রায় পাঁচ দশক ধরে প্রতি বছর মাঘী পূর্ণিমায় এই মহানামযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। উৎসব চলাকালীন দুই দিন এলাকার মানুষ নিরামিষ আহার গ্রহণ করেন, যা বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এক পবিত্র রীতি।
উৎসবের মূল অনুষ্ঠানসূচি:
১৭ মাঘ (৩১ জানুয়ারি, শনিবার):
ব্রাহ্মমুহূর্তে মাঙ্গলিক শ্রী শ্রী মধুসূদন স্তুতি পাঠ।
সকাল ১০:০১ মিনিটে শ্রী শ্রী গুরু পূজা।
দুপুর ০১:০১ মিনিটে শ্রী শ্রী গীতা পাঠ প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সন্ধ্যা ০৬:০১ মিনিটে শ্রী শ্রী মহানামযজ্ঞের শুভ অধিবাস।
রাত ১০:০১ মিনিটে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ আস্বাদন।
পূজা পরিচালনা করবেন: পণ্ডিত শ্রী প্রিয়তোষ চক্রবর্তী (কাব্য, ব্যাকরণ, স্মৃতি, পৌরহিত্য তীর্থ) এবং শ্রী দুলাল ভট্টাচার্য (প্রধান শিক্ষক)।
অধিবাস কীর্তন পরিবেশন করবেন: শ্রী সনাতন দাশ (বাঁশখালী, চট্টগ্রাম)
শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ করবেন: শ্রী মিলন কান্তি দে, শ্রী বদন চন্দ্র দে, শ্রী জরুরলাল কান্তি দে ও শ্রী প্রতাপ দে।
সহযোগিতায় থাকবেন অদ্বৈত অচ্যুত মিশন, আদিনাথ ঠাকুরতলা শাখা।
১৮ মাঘ (১ ফেব্রুয়ারি, রবিবার):
ব্রাহ্মমুহূর্তে — মাঙ্গলিক শ্রী শ্রী মধুসূদন স্তুতি পাঠ ও শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞের শুভারম্ভ।
সকাল ০৬:০১ মিনিটে — শ্রী শ্রী গুরু পূজা।
সকাল ১১:০১ মিনিটে — শ্রী শ্রী ঠাকুরের রাজভোগ প্রদান ও ভোগারতি।
দুপুর ০১:০১ মিনিটে — আনন্দবাজার মহাপ্রসাদ আস্বাদন।
সন্ধ্যা ০৬:০১ মিনিটে — মঙ্গল আরতি ও সমবেত প্রার্থনা।
১৯ মাঘ (২ ফেব্রুয়ারি, সোমবার):
অহোরাত্র ব্যাপী — শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহানামযজ্ঞ।
সকাল ০৬:০১ মিনিটে — শ্রী শ্রী গুরু পূজা।
সকাল ১১:০১ মিনিটে — শ্রী শ্রী ঠাকুরের রাজভোগ প্রদান ও ভোগারতি।
দুপুর ০১:০১ মিনিটে — আনন্দবাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন।
সন্ধ্যা ০৭:০১ মিনিটে — মঙ্গল আরতি ও সমবেত প্রার্থনা।
রাত ১০:০১ মিনিটে — আনন্দবাজারে মহাপ্রসাদ আস্বাদন।
২০ মাঘ (৩ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার):
উষালগ্নে — নগর কীর্তনসহ শ্রী শ্রী তারকব্রহ্ম মহোৎসবের পূর্ণাহুতি ও বৈষ্ণব বিদায়।
মহানামযজ্ঞে নামসূধা পরিবেশন করবেন:
•কৃষ্ণমুরারী সম্প্রদায়, পিরোজপুর।
•জগন্নাথ সম্প্রদায়, চট্টগ্রাম।
•মোহনলাল সম্প্রদায়, সিলেট।
•গোপালবাড়ি সম্প্রদায়, চট্টগ্রাম।
•স্বচ্ছিদানন্দ সম্প্রদায়, কক্সবাজার।
সমগ্র অনুষ্ঠানের সহযোগিতায় রয়েছেন:
শ্রী শ্রী রাজেশ্বরী রক্ষা কালী মন্দির কমিটি, শ্রী শ্রী আদিনাথ রামসীতা মন্দির কমিটি, শ্রী শ্রী লোকনাথ সেবক সংঘ, শ্রী শ্রী আদিনাথের নামহট্ট সংঘ (ইসকন), শ্রী শ্রী সরস্বতী সেবক সংঘ, অদ্বৈত অচ্যুত মিশন ঠাকুরতলা শাখা, ঠাকুরতলা সমাজ কমিটি এবং ঠাকুরতলা উদয়ন ক্লাব।
মহোৎসব উদযাপন কমিটি জানিয়েছে, “যদি আয়োজনের মধ্যে কোনো ছোটখাটো ত্রুটি থাকে, তবে সেটিকে সকলেই ভক্তি ও স্নেহের দৃষ্টিতে গ্রহণ করুন। সকলে একত্রিত হয়ে অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতা করলে এই মহানামযজ্ঞ ভক্তিময় আনন্দে পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। আমাদের মিলিত হৃদয় ও প্রার্থনা হবে উক্ত মহোৎসবের সার্থকতার শক্তি।”