
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান ঋষিধামে আগামী ২৩ জানুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে বাংলাদেশের একমাত্র ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা। ২২তম আন্তর্জাতিক এই ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলা চলবে ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ১১ দিন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এ উপলক্ষে দেশ-বিদেশ থেকে লক্ষাধিক ভক্ত, সাধু ও সন্ন্যাসীর সমাগমের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
ঋষিধাম পরিচালনা কমিটি ও শ্রীগুরু সংঘের আয়োজনে এবং ঋষি অদ্বৈতানন্দ পরিষদ বাংলাদেশের সার্বিক সহযোগিতায় এবারের কুম্ভমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। মেলার মহন্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন শ্রীমৎ স্বামী সচিদানন্দ পুরী মহারাজ।
আয়োজকেরা জানান, কুম্ভমেলায় প্রতিদিন গীতা পাঠ, বেদপাঠ, ধর্মালোচনা, যোগসাধনা, হোমযজ্ঞ, কীর্তন, ভজন-সন্ধ্যা ও গুরুস্মরণসহ নানা ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। মানবকল্যাণ, শান্তি ও আত্মজাগরণকে সামনে রেখে এ আয়োজন করা হয়েছে বলে জানান তাঁরা।
কর্মসূচি অনুযায়ী, ২৩ জানুয়ারি উদ্বোধনের মাধ্যমে মেলার সূচনা হবে। এরপর বিশ্বশান্তি কামনায় যজ্ঞ, মহাদেবের রুদ্রাভিষেক, বৈদিক দর্শন পাঠ, ধর্মসভা, কীর্তন মহাযজ্ঞ, কুম্ভস্নান উৎসব, মহাপ্রসাদ বিতরণ এবং শেষ দিন ২ ফেব্রুয়ারি দীক্ষাদান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মেলার সমাপ্তি ঘটবে। সত্য সনাতন টিভি
ঋষিকুম্ভ ও কুম্ভমেলার প্রবর্তন করেন জগৎগুরু শিবকল্পতরু শ্রীমৎ স্বামী অদ্বৈতানন্দ পুরী মহারাজ। ১৯৫৭ সাল থেকে প্রতি তিন বছর অন্তর এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। আয়োজকদের মতে, এটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক মিলনক্ষেত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।
মেলা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে বলে আয়োজকেরা জানান। পাশাপাশি ভক্তদের যাতায়াত ও সেবাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
আয়োজকেরা ধর্মপ্রাণ মানুষের পাশাপাশি সাধারণ দর্শনার্থীদেরও এ কুম্ভমেলায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।