নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দাশ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদ্যাপনের লক্ষ্যে চট্টগ্রামে পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে জেলা পুলিশ। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা, যান চলাচল, নারী ও শিশুদের সুরক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধসহ বিভিন্ন বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়।
গতকাল সকাল ১১ ঘটিকায় চট্টগ্রাম পুলিশ লাইন্সের সিভিক সেন্টারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার ১৭টি থানার পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা এবং জেলা পর্যায়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। এতে জেলা কমান্ড্যান্ট, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি চট্টগ্রাম মো. সেফাউল হোসেন, জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। সত্য সনাতন টিভি
সভায় পূজামণ্ডপে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখা, নারী ও শিশুদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা এবং স্বেচ্ছাসেবকদের কার্যক্রম জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের ক্ষেত্রে বিকল্প ব্যবস্থা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
অগ্নিকাণ্ডসহ যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন নিজের হাতে না নিয়ে দ্রুত পুলিশকে জানানোর জন্য পূজা কমিটির নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সভায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। যাচাই না করে কোনো তথ্য প্রচার বা শেয়ার না করতে পূজা কমিটির নেতাদের সতর্ক করা হয়। কোনো উসকানিমূলক বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চোখে পড়লে তা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে স্থানীয় মসজিদের ইমাম, ধর্মীয় নেতা, জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার কথা বলা হয়। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে সম্প্রীতি কমিটি গঠনেরও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া পূজামণ্ডপে মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রে নির্ধারিত শব্দমাত্রা ও সময়সীমা অনুসরণ করতে বলা হয়। বিশেষ করে মসজিদে আজান ও নামাজের সময় পারস্পরিক ধর্মীয় সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানানো হয়।
সভায় বিভিন্ন থানার পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতারা তাঁদের এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি, সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। জেলা পুলিশ এসব বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপনে পুলিশ, পূজা কমিটি, স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। উৎসব চলাকালে যেকোনো সমস্যা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।