নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
হিন্দু ধর্মীয় পরম্পরায় পিতৃপক্ষ পূর্বপুরুষদের স্মরণ ও তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে প্রয়াত বাবা-মা, দাদা-দাদি, নানা-নানি এবং অন্যান্য পূর্বপুরুষের উদ্দেশ্যে শ্রাদ্ধ, তর্পণ, পিণ্ডদান, প্রার্থনা ও দানের মতো বিভিন্ন ধর্মীয় আচার পালন করা হয়।
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, মানুষ তার পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে জীবন, পারিবারিক ঐতিহ্য, সংস্কার ও মূল্যবোধ পেয়েছে। তাঁদের প্রতি মানুষের যে দায়িত্ব ও কৃতজ্ঞতা, হিন্দু ধর্মীয় দর্শনে সেটিকে ‘পিতৃঋণ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পিতৃপক্ষকে সেই পিতৃঋণ স্মরণ ও পূর্বপুরুষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
কেন করা হয় তর্পণ?
পিতৃপক্ষে তর্পণ একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী জল ও তিলসহ বিভিন্ন উপকরণ নিবেদন করে পূর্বপুরুষদের স্মরণ করা হয়। ‘তর্পণ’ মূলত পূর্বপুরুষদের উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা ও নিবেদনের প্রতীকী প্রকাশ।
ধর্মীয় বিশ্বাসে, তর্পণ ও শ্রাদ্ধের মাধ্যমে প্রয়াত পূর্বপুরুষদের শান্তি ও সদ্গতির জন্য প্রার্থনা করা হয়। একই সঙ্গে তাঁদের প্রতি ভালোবাসা, সম্মান ও কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করা হয়।
পিতৃপক্ষের আর কী কী আচার রয়েছে?
পরিবার ও অঞ্চলভেদে পিতৃপক্ষ পালনের রীতিতে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। তবে সাধারণভাবে নির্দিষ্ট তিথিতে শ্রাদ্ধ, পিণ্ডদান, তর্পণ, অন্ন নিবেদন এবং দানের প্রচলন রয়েছে। অনেক পরিবার ব্রাহ্মণ, দরিদ্র ও অসহায় মানুষকে খাবার খাওয়ানো বা সামর্থ্য অনুযায়ী দান করে থাকে।
পিতৃপক্ষের শেষ দিন সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া অমাবস্যা। যাঁদের পূর্বপুরুষের মৃত্যুতিথি জানা নেই কিংবা নির্দিষ্ট তিথিতে শ্রাদ্ধ করা সম্ভব হয়নি, তাঁদের স্মরণে এই দিনটি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে ধর্মীয় রীতিতে বিবেচিত হয়।
শুধু ধর্মীয় আচার নয়, পারিবারিক স্মরণও
পিতৃপক্ষের সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি পারিবারিক স্মৃতি ও ঐতিহ্যেরও সম্পর্ক রয়েছে। এ সময়ে পরিবারের প্রবীণরা নতুন প্রজন্মকে প্রয়াত স্বজনদের কথা, পারিবারিক ইতিহাস ও পূর্বপুরুষদের অবদান সম্পর্কে জানান। এর মাধ্যমে পারিবারিক শিকড় ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরবর্তী প্রজন্মের সম্পর্ক তৈরি হয়।
ধর্মীয় দৃষ্টিতে পিতৃপক্ষ তাই পূর্বপুরুষদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি বিশেষ সময়। তর্পণ, শ্রাদ্ধ, প্রার্থনা ও দানের মাধ্যমে তাঁদের স্মরণ করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরা নিজেদের শিকড় ও ঐতিহ্যকেও স্মরণ করেন।
২০২৬ সালের পিতৃপক্ষের উল্লেখযোগ্য তিথি
২৬ সেপ্টেম্বর — পূর্ণিমা শ্রাদ্ধ
২৭ সেপ্টেম্বর — প্রতিপদ শ্রাদ্ধ, মূল পিতৃপক্ষের শুরু
২৮ সেপ্টেম্বর — দ্বিতীয়া শ্রাদ্ধ
২৯ সেপ্টেম্বর — তৃতীয়া শ্রাদ্ধ ও মহাভরণী
৩০ সেপ্টেম্বর — চতুর্থী শ্রাদ্ধ
১ অক্টোবর — ষষ্ঠী শ্রাদ্ধ
২ অক্টোবর — সপ্তমী শ্রাদ্ধ
৩ অক্টোবর — অষ্টমী শ্রাদ্ধ
৪ অক্টোবর — নবমী শ্রাদ্ধ
৫ অক্টোবর — দশমী শ্রাদ্ধ
৬ অক্টোবর — একাদশী শ্রাদ্ধ
৭ অক্টোবর — দ্বাদশী শ্রাদ্ধ
৮ অক্টোবর — ত্রয়োদশী শ্রাদ্ধ
৯ অক্টোবর — চতুর্দশী শ্রাদ্ধ
১০ অক্টোবর — সর্বপিতৃ অমাবস্যা বা মহালয়া অমাবস্যা