নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
সাইকেল চালিয়ে বিশ্বের অন্যতম দুর্গম ও উচ্চতম পর্বতাঞ্চল এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছেছেন রাঙামাটির কাপ্তাইয়ের তরুণ অভিযাত্রী বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যা। কঠিন পাহাড়ি পথ, বৈরী আবহাওয়া ও দীর্ঘ শারীরিক পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে তিনি এ অভিযাত্রা সম্পন্ন করেন।
বীর কুমারের কাছে এ যাত্রা কেবল একটি ব্যক্তিগত অ্যাডভেঞ্চার নয়। স্বেচ্ছায় রক্তদান, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি বাংলাদেশের অ্যাডভেঞ্চার ও পর্যটন সম্ভাবনাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার উদ্দেশ্যও ছিল তাঁর।
অভিযাত্রার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে বীর কুমার বলেন, বড় কোনো লক্ষ্য সামনে থাকলে পথের কঠিন পরিস্থিতি মানুষকে থামিয়ে দিতে পারে না। দীর্ঘ সাইকেলযাত্রায় একের পর এক চ্যালেঞ্জ এলেও দেশের মানুষের ভালোবাসা ও শুভকামনা তাঁকে এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোর পর তিনি এই সাফল্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্মরণ করেন। তাঁর ভাষ্য, অভিযানের পেছনে যারা বিভিন্নভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ দিয়েছেন, তাঁদের অবদানও এই অর্জনের অংশ। সত্য সনাতন টিভি
বীর কুমার তঞ্চঙ্গ্যার সাইকেল অভিযানের অভিজ্ঞতা নতুন নয়। এর আগে তিনি সাইকেলে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ঘুরেছেন। দেশের এক প্রান্ত টেকনাফ থেকে আরেক প্রান্ত তেঁতুলিয়া পর্যন্ত দীর্ঘ ক্রস-কান্ট্রি পথও সাইকেলে পাড়ি দিয়েছেন তিনি।
ভারতের ১০টি রাজ্য ভ্রমণের অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর ঝুলিতে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে শুরু হওয়া একটি অভিযানে প্রায় ৭১ দিনে ৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ২০২৪ সালের মার্চে দেশে ফেরেন তিনি।
কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা বীর কুমার কাপ্তাই ব্লাড ব্যাংক ও ওয়াগ্গা ভলান্টিয়ার-এর প্রতিষ্ঠাতাদের একজন হিসেবে স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত। রক্তদান, মানবসেবা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু সচেতনতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন তিনি।
এভারেস্ট বেস ক্যাম্পে পৌঁছানোতেই নিজের অভিযান শেষ করতে চান না বীর কুমার। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় রয়েছে হিমালয়ের আরও কয়েকটি দুর্গম গিরিপথ ও বেস ক্যাম্পে সাইকেল নিয়ে পৌঁছানো। সত্য সনাতন টিভি
এর মধ্যে ৫ হাজার ৪১৬ মিটার উচ্চতার থরং লা পাস, ৪ হাজার ১৩০ মিটার উচ্চতার অন্নপূর্ণা বেস ক্যাম্প এবং ৫ হাজার ১০৪ মিটার উচ্চতার লার্ক্যা লা পাস রয়েছে।
বীর কুমারের প্রত্যাশা, এসব অভিযানের মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা পৌঁছে যাবে। একই সঙ্গে দেশের তরুণদের মধ্যে অ্যাডভেঞ্চার, স্বেচ্ছাসেবা ও পরিবেশ সচেতনতার প্রতি আগ্রহ তৈরি হবে।
তাঁর এই যাত্রা তাই শুধু পাহাড় জয়ের গল্প নয়; বরং দীর্ঘদিনের সাইক্লিং অভিজ্ঞতা, স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ এবং বাংলাদেশের পরিচয়কে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টাও।