নিজস্ব প্রতিবেদক : চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
বাংলাদেশে সর্বপ্রথম সনাতনী ধর্মীয় ব্যান্ড ‘প্রণাম’-এর ভোকালিস্ট রোমারিও সূত্রধরকে কোরআন শরিফ অবমাননার অভিযোগে ফাঁসানোর পরিকল্পনার কথিত একটি অডিও রেকর্ড প্রকাশ্যে আসার দাবি উঠেছে। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম চন্দনাইশ শ্রীশ্রী লোকনাথ ও বাসন্তী মন্দিরের অধ্যক্ষ সাধু অজপানন্দ ওরফে অজয় দাশ (৪০) সহ সাতজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন রোমারিও সূত্রধর।
রোমারিও সূত্রধর সত্য সনাতন টিভিকে জানান, ব্যক্তিগত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং তাঁর কাছ থেকে একটি লিখিত বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। ওই বক্তব্যের মাধ্যমে তাঁকে তাঁর প্রেমিকা রাধিকা সূত্রধরের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও ছিল বলে দাবি তাঁর।
রোমারিও আরো বলেন, বিষয়টি বুঝতে পেরে তিনি স্ট্যাম্পে কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। এরপর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাঁর পরিবারের সদস্যদেরও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। সত্য সনাতন টিভি
রোমারিও র দাবি, এ-সংক্রান্ত একটি কথিত অডিও রেকর্ড তাঁর হাতে এসেছে, যেখানে ১০ লাখ টাকা লেনদেনের বিষয়ে কথোপকথন রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
অভিযোগে রোমারিও আরও বলেন, তিনি কোনো বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাঁর বিরুদ্ধে কোরআন শরিফ অবমাননার মিথ্যা অভিযোগ তোলার হুমকি দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান তিনি। সত্য সনাতন টিভি
রোমারিও সূত্রধর বলেন, বিষয়টি নিয়ে তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে ইতিমধ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন। তাঁর দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয় করা এবং ধর্মীয় অনুভূতিকে ব্যবহার করে বিপদে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘Mohammad Marjan’ নামে একটি পেজ থেকে রোমারিও সূত্রধরকে ঘিরে একটি ফটোকার্ড ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। ওই ফটোকার্ডে তাঁর বিরুদ্ধে ইসলাম ধর্ম অবমাননার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়। সত্য সনাতন টিভি
রোমারিওর অভিযোগ, ওই ফটোকার্ডে তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ছবি ব্যবহার করা হলেও তিনি নিজে এ ধরনের কোনো ছবি প্রকাশ করেননি। তাঁর দাবি, ফটোকার্ডে ব্যবহৃত কোরআনের ছবিটিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা হতে পারে।
এ বিষয়ে রোমারিও সূত্রধর বলেন, কোনো ধর্মের অবমাননা করা তাঁর উদ্দেশ্য নয়। তাঁর দাবি, তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরির উদ্দেশ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো অভিযোগ বা ছবি যাচাই না করে শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে অজপানন্দসহ মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং কথিত অডিও রেকর্ডের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।