নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
একই পরিবারের দুই সদস্য, দুজনেরই পেশা এবার বিচার বিভাগে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের ১৮তম পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচারক হিসেবে সুপারিশ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী চৈতি বিশ্বাস। এর আগে তার স্বামী উদাস গোস্বামী ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে বিচার বিভাগে যোগ দেন। বর্তমানে তিনি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশন সচিবালয়ের ওয়েবসাইটে ১৮তম বিজেএস পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। ফল প্রকাশের পর চৈতি বিশ্বাসের বিচারক হিসেবে সুপারিশ পাওয়ার বিষয়টি জানা যায়।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই আইন ও বিচার বিভাগে ক্যারিয়ার গড়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যান চৈতি। ধারাবাহিক প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর এবার তিনি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেলেন।
অন্যদিকে তার স্বামী উদাস গোস্বামীও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন। ১৬তম বিজেএস পরীক্ষায় সফল হয়ে তিনি বিচার বিভাগে প্রবেশ করেন। স্বামী-স্ত্রী দুজনের এমন সাফল্যে পরিবারে তৈরি হয়েছে আনন্দের পরিবেশ।
চৈতির সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তার স্বামী উদাস গোস্বামী। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ছোটবেলা থেকেই জজ-ম্যাজিস্ট্রেট দেখার প্রতি তার আগ্রহ ছিল। এখন ঘুম থেকে উঠেই একজন জজ দেখার সৌভাগ্য হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্ত্রীর সাফল্যের প্রশংসা করে উদাস গোস্বামী আরও লেখেন, স্রষ্টার কৃপায় চৈতির পরিশ্রম তাকে এই সম্মান এনে দিয়েছে। ১৮তম জুডিশিয়ারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ায় প্রিয়তমা সহধর্মিণী চৈতি বিশ্বাসকে অভিনন্দনও জানান তিনি।
পারিবারিক এই সাফল্যের মুহূর্তে প্রয়াত বাবার কথা স্মরণ করে আবেগঘন কথাও লিখেছেন উদাস গোস্বামী। অল্প সময়ের ব্যবধানে তার বাবা এই সাফল্য দেখে যেতে পারেননি, এটিকে নিজের আফসোস হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
স্বামী-স্ত্রী দুজনের বিচার বিভাগে যুক্ত হওয়ার ঘটনা ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আইন অঙ্গনের পাশাপাশি পরিচিতজনদের কাছ থেকেও তারা শুভেচ্ছা পাচ্ছেন।