নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
ভারতের তেলেঙ্গানা রাজ্যে বোনকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে তাঁর স্বামীকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে ভাইয়ের বিরুদ্ধে। নিহত ব্যক্তি তাঁর চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে নিজামাবাদে রাস্তার পাশে একটি খাবারের দোকানের কাছে ২৬ বছর বয়সী চিত্তারি হরিবাবুর ওপর হামলা চালানো হয়। একটি গাড়িতে করে তিন থেকে চারজন ব্যক্তি সেখানে আসে। তাঁদের মধ্যে একজন গাড়ি থেকে নেমে ধারালো দা দিয়ে হরিবাবুর মাথা ও ঘাড়ে এলোপাতাড়ি কোপ দেন। এতে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নিজামাবাদের গভর্নমেন্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। হামলাকারীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের মার্চে। ১৭ মার্চ জগতিয়াল জেলায় চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা ইউটিউবার গন্ধম বৈষ্ণবীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁর পরিবারের অভিযোগ ছিল, অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে বৈষ্ণবীকে নির্যাতন করা হয়েছিল। এ ঘটনায় করা মামলায় হরিবাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে জুলাই মাসে তিনি জামিনে মুক্তি পান।
হরিবাবুকে হত্যার ঘটনায় বৈষ্ণবীর ভাই সন্তোষের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি সেলফি ভিডিওতে সন্তোষকে হত্যার দায় স্বীকার করতে দেখা যায়। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, বোনকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকেই তিনি হত্যা করেছেন।
সন্তোষের দাবি, বোনের হত্যার বিচার পাওয়ার জন্য সরকারের পদক্ষেপের অপেক্ষা করেও তিনি কোনো ফল পাননি। অন্য একটি কাজে যাওয়ার সময় নিজামাবাদে হরিবাবুকে দেখতে পেয়ে তিনি হামলা চালান। নিজের নিরাপত্তার জন্য তিনি অস্ত্র সঙ্গে রেখেছিলেন বলেও ভিডিওতে দাবি করেন। পাশাপাশি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করার কথাও জানান।
ভিডিওতে সন্তোষ আরও বলেন, তাঁর স্ত্রী ও সন্তান রয়েছে। মৃত্যুদণ্ড এড়াতে তিনি জনগণের সহযোগিতাও চান।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির সত্যতা এখনো যাচাই করছে পুলিশ। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে সন্তোষসহ অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্তঃসত্ত্বা ইউটিউবার বৈষ্ণবীর মৃত্যুর কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর স্বামীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তেলেঙ্গানায় ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।