নিজস্ব প্রতিবেদন : অনিক মন্ডল | শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুর জেলার ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির ঘুরে বিস্তারিত জানিয়েছেন ,অনিক মন্ডল
শরীয়তপুরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির ডিঙ্গামানিক রাম ঠাকুরবাড়িতে উন্নয়নের ধারায় পুরাতনকে নতুনের আবহে আবদ্ধ করার মহাকর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে মন্দির পরিচালনা কমিটি।
বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচনা ও সমালোচনায় থমকে যায়নি রাম ঠাকুরের জন্মভিটায় অবকাঠামো নির্মাণের মহাকর্মযজ্ঞ।
তথ্য উপাত্তে উঠে আসে অবকাঠামো উন্নয়নের এসব কর্মযজ্ঞ পরিচালিত হচ্ছে হেড অফ দ্য মোনাসটেরী'র তত্ত্বাবধানে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে।
জানা যায় শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দিরের মোহন্ত হেড অফ দ্য মোনাসটেরি,তিনি বছরের বেশ কিছু সময় অতিবাহিত করেন দেশে-বিদেশে অবস্থিত শ্রীশ্রী রামচন্দ্র দেবের মন্দির, ভক্ত ও শিষ্যদের কাছে। সেখানে মোহন্ত শ্রীশ্রী রাম ঠাকুরের ভক্ত অনুসারী বা শিষ্যদের মাঝে গুরুদেবের শ্রীনাম প্রদান করেন। এর মধ্যে বছরে দু'একবার তিনি ডিঙ্গামানিক মন্দিরে অবস্থান করেন। তন্মধ্যে অন্যতম সময় হলো মাঘ মাসে তিন দিনব্যাপী মন্দির প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী মহোৎসব উপলক্ষে।
সম্প্রতি ডিঙ্গামানিক ঠাকুরবাড়ি কমপ্লেক্স এ মাস্টারপ্ল্যান এর অংশ হিসেবে বিশাল কর্মযজ্ঞের শুভ সূচনা হয়। শুভ সূচনায় দেখা যায় মন্দির পরিচালনা কমিটির সভায় উপস্থিত সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুরাতন ভবনগুলো অপসারণ করে সময়োপযোগী বেশকিছু প্রকল্পের কাজ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
তারমধ্যে নাট মন্দির রাম ঠাকুরের শয়ন মন্দির লক্ষণ মন্দির ভোগের প্রসাদ রান্নার ঘর সহ ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পুরাতন ভবন গত ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রী. বুধবার মন্দির পরিচালনা কমিটি কর্তৃক ভেঙে দিয়ে কাজ চলমান রাখে।
নতুন অবকাঠামো গুলোর মধ্যে নাট মন্দির, রাম ঠাকুরের শয়ন মন্দির, লক্ষ্মণ মন্দির, মন্দিরে যাতায়াতের জন্য দুই লাইন বিশিষ্ট প্রশস্ত রাস্তা, সুপেয় জলের ব্যবস্থা, ড্রেইনেজ ব্যবস্থা, পুকুরের পাড়ের বাঁধ নির্মাণ, সোলার প্যানেল, নিজস্ব বিদ্যুৎ পাওয়ার প্ল্যান্ট, হাই কিলোওয়াটের নিজস্ব অটোমেটিক জেনারেটর সার্ভিস সহ নানামুখী কর্মযজ্ঞ।
তো এবার আসি পুরাতন ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ ভবন সম্পর্কে-
সম্প্রতি দেখা যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছে রাম ঠাকুর বাড়িতে থাকা পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনটি সম্পর্কে। ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করা হয় ডিঙ্গামানিক ঠাকুর বাড়ির ৫০০বছর আগের রাম ঠাকুরের ধ্যান মন্দির ভেঙে ফেলা হয়েছে।
শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির ডিঙ্গামানিকে বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নের যে মহাকর্মযজ্ঞ চলছে সেখানে পুরাতন ভবন ভাঙ্গার বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার তথ্য অনুসন্ধানের জন্য মাঠে নামে হিন্দু'স নিউজ টিম।
গত ৯সেপ্টেম্বর ২০২৬খ্রি. তারিখে ঠাকুর বাড়ির পুরাতন ভবন ভাঙার পর থেকে ঘুরে ঘুরে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন মঠ মন্দিরের পুরোহিত, দায়িত্বশীল ব্যক্তি, দেশ বিদেশের রাম ঠাকুরের ভক্ত অনুসারী, শিষ্য, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মতামতের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরা হল-
শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দিরের পুরোহিত আশুতোষ অধিকারী বলেন মন্দিরের সংস্কার কাজ হচ্ছে যা খুবই দরকার। পুরাতন ভবনটি অনেক আগেই পরিত্যক্ত হয়ে রয়েছিল, যা আরো অনেক আগেই অপসারণ করা দরকার ছিল। পুরাতন ভবনটি ভাঙ্গায় মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে।
মন্দিরে থাকা শিল্পী চক্রবর্তী বলেন অনেকদিন যাবত এটি জরাজীর্ণ হয়ে গাছ গাছড়ায় ভরা ছিল। ১৫ বছর আগে গাছপালা কেটে পরিষ্কার করা হয়েছিল। তারপর ৮ থেকে ১০ বছর পর আবার জল পড়তো ও চারপাশ থেকে নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। আমাদের ভক্তবৃন্দরা আসতো দেখতো, যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটে তাই কমিটি থেকে এটি ভাঙ্গা হয়। ভবনটি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। উৎসবের সময় দূর্গা পূজার সময় আষাঢ় মাসে অনেক মানুষজন আসে। এদের মধ্যে অনেক ছোট বড় বাচ্চা ও বৃদ্ধরাও থাকে। তখন যদি কোন দুর্ঘটনা ঘটত তাইলে এর রিস্ক কে নিত?এজন্য কমিটি ভেবেচিন্তে এটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মন্দিরে থাকা উমা রানী চক্রবর্তী বলেন জোরে জোরে ভূমিকম্প হয় এইটায় জল জইম্মা যাইত। নষ্ট হইয়া গেছে। উৎসবের সময় বহু লোক আসে। এইটা ভয়েরই কারণ। এইটা সুন্দর কইরা হোক এই আমরা চাই।
স্থানীয় ভক্ত ও ডিঙ্গামানিক কালি খোলা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সভাপতি বাসু দাস বলেন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের পাশ দিয়ে চলাচল করলে মানুষ আতঙ্কে থাকেন। এটি ভাঙ্গাতে আমরা খুশি। ঠাকুর বাড়ির অনেক সম্পত্তি বেহাত ছিল, এই কমিটির দ্বারা মন্দিরের বেহাত সম্পত্তি আয়ত্তে আসায় আমরা গর্বিত।
ঘরিসার ইউনিয়নের কলারগাঁও নিবাসী ডিঙ্গামানিক কালি খোলা সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ভক্ত পলক দাস বলেন পুরাতন এই বিল্ডিং খুবই ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ ছিল। মন্দিরের উৎসবের সময় বহু ভক্তের সমাগম হয়, তখন যদি ভবনটি ভেঙে পড়তো তবে অনেক মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। এটিও বিশ্বাস করি যে ভবনটি পুরাতন ছিল যা দেখে অনেকে মুগ্ধ হত। এখন এখানে নতুন ভবন হবে তবে সেখানে উপরের অংশে আগের মত দোচালা ছাউনি থাকলে আমরা আরো খুশি হব।
ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা থেকে মন্দিরে আগত ভক্ত ও শিষ্য স্বপন কুমার সাহা বলেন ডিঙ্গামানিকে এসে আমরা প্রাণ ফিরে পাই। এখানে এসে দেখছি নতুন করে অবকাঠামো উন্নয়ন হচ্ছে। জানতে পেরেছি এই উন্নয়নে কমিটির সহ প্রায় সকলের মতামত আছে। আমরা ঠাকুরবাড়ির উন্নয়নে সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
রামভদ্রপুর ইউনিয়নের কার্তিকপুর নিবাসী মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সনাতন পাল বলেন আমাদের কার্যকরী কমিটির সভায় পুরাতন ভবন গুলোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল যে ভবন গুলো খুবই জরাজীর্ণ হয়ে গেছে এগুলো ভেঙে আবার নতুন করে ভবন তৈরি করা হবে। এই সিদ্ধান্ত হয়েছিল। এই ভবনটি একটি পুরাতন ভবন কিন্তু ভবনটি প্রায় ২০০ বছরের মতো হবে। তবে এটি অনেক জরাজীর্ণ হয়ে গেছে তা বলার মত না। এই ভবনের দুটি পাশ আছে দুই পাশে আমাদের উৎসবের সময় প্রায় এক দেড় হাজার লোক দেওয়া হয় থাকার জন্য। যেকোনো সময় এই ভবনটা ধইসা পড়তে পারে এমন পরিস্থিতি ছিল। আপনারা তো জানেন পুরাতন ভবন রাখা বিপদজনক। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জগন্নাথ হল এর যে ভবনটা ধসে পড়ছে সেখানে তো অনেক ছেলের প্রাণহানি ঘটেছে। এখন যারাই বলেন এই ভবনটা কেন ভাঙ্গা হইল এর জবাব তো দেওয়ার মত না। যখন একটা লোক এক্সিডেন্ট হইতো তখন তো আপনারাই আমাদেরকে প্রশ্ন করতেন যে কেন আপনারা কমিটিতে থাইকা এগুলো দেখেন নাই। এগুলো তো আপনাদের দেখা উচিত ছিল। এখন এখানে যে ভবনটা ভাঙ্গা হইছে এখানেই আবার একটা ভবন তৈরি করা হবে। তখন তো এটা দৃশ্যমান হবে।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য এবং উৎসব কমিটির জিওসি কানাইলাল পাল বলেন মন্দিরে ইলেকট্রিক, জলসহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে আমি জড়িত। এই ভবনটি এতই জরাজীর্ণ ছিল এই ভবনের কাজ করতে গিয়ে পেরেক বসাতে পারিনি। যখনই পেরেক বসাতে গিয়েছি তখনই ধুলার মতো সুরকি খসে পড়েছে।
মন্দিরের উৎসব কমিটির সদস্য বাবুল বৈদ্য বলেন এই জরাজীর্ণ ভবনটা নিয়ে অনেকেই বিরূপ মন্তব্য করতেছেন। কমিটি নতুন করে ভবনটি তৈরি করার উদ্যোগ নিয়েছেন এটি ভালো। কারণ এই জরাজীর্ণ ভবনে যেকোনো সময় এক্সিডেন্ট হতে পারতো।
মন্দিরের পাচক ননীগোপাল মণ্ডল বলেন আমাদের মন্দিরে জীর্ণ ভবন ছিল অবশ্যই কষ্ট হয়। এটাও ভাবতে হবে কর্মকর্তারাই আছেন তারা ঠাকুরবাড়ির উন্নয়নের জন্য কাজ করছেন। ভালো কিছু পেতে হলে কিছু ছাড়তে হয়। আমাদের কষ্ট দূর হয়ে যাবে কিন্তু এখানে আমরা চাই এই ক্যাটাগরির একটি ভবন হোক। তাহলে এ কষ্ট কোন ভক্তেরই থাকবে না। কমিটি যে কাজ ধরছেন এগুলো তো কারো বাড়ির জন্য না মন্দিরের জন্যই। মন্দিরের জায়গা অনেক ভেজাল ছিল গন্ডগোল ছিল এগুলোতো ফেরত আনছেন কমিটি আইনের মাধ্যমে লড়ে সত্যের পথে ফেরত আনছেন। এটা ধসে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। এর দায়ভার তখন কে নিতেন? নিশ্চিত মন্দির কমিটির উপর আসতেন। মন্দির কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে মন্দিরের কিভাবে পরিবেশ সুন্দর হবে সে জন্যই এ প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। যেন ঠাকুরের ঐতিহ্য ধরে রাখা যায় এটাই আমাদের আশা।
মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য শিবু দাস বলেন ঠাকুর বাড়ির অবকাঠামো উন্নয়নে সকলের সহযোগিতা অব্যাহত আছে। পুরাতন ভবন ভাঙার বিষয়ে আমাদের সভা হয়েছে। সেই সভাতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে পুরাতন ভবন অপসারণ করে নতুন অবকাঠামো উন্নয়ন হবে। যে পুরাতন ভবন ভাঙা নিয়ে এত কিছু রটছে তা বসবাসের অনুপযোগী হয়েছে আরো বহুকাল আগেই। আমরা অতীতে বেশ কিছু বছর আগে একলক্ষ চল্লিশ হাজার টাকা ব্যয় করে পুরাতন ভবনের সংস্কার করিয়েছিলাম। তখন পুরাতন ভবনে জন্ম নেওয়া বিভিন্ন আগাছা গাছপালার শেকড় ছাদ ভেদ করে দেয়াল সহ ভবনে বেশ ফাটল দেখা দেয়। তারপরও আমরা ঢাকা থেকে আর্কিটেকচার টিম আনিয়ে সংস্কারের ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহন করি। আর্কিটেক্ট এসে দেখে জানায় এই ভবন সংস্কার করার মতো কোন অবস্থায় নেই। তারপর কেটে যায় বেশ কিছু বছর। দিনদিন ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। নিচ থেকে চুন সুরকি আর ইট খসে পড়ে। তিনি আরো বলেন এভাবে নিজেদের মধ্যে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হলে আর কিছু তো হবে না, হবে ঠাকুরবাড়ির ক্ষতি। আমরা যারা আছি সকলেই ঠাকুরবাড়ির উন্নয়ন চাই।
ডিঙ্গামানিক শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুকুল চন্দ্র রায় বলেন আমরা পরিচালনা কমিটির সভা করে পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনগুলো অপসারণ করে নতুন অবকাঠামো উন্নয়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। সেই মোতাবেক ঠাকুরবাড়ির নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। তিনি ঠাকুরের রাতুলচরণে ভক্তিপূর্ণ নিবেদনে সকল ভক্ত ও শিষ্য গনের উদ্দেশ্যে বলেন আসুন আমরা সকলের সহযোগিতায় একতাবদ্ধ হয়ে যার যার অবস্থান থেকে নিজেদের দলমতের উর্ধ্বে রেখে ঠাকুরকে হৃদয়ে ধারণ করে শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির কমপ্লেক্স কে একটি সুন্দর পরিবেশ উপহার দেই। জয় রাম জয় গোবিন্দ।।
নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ আব্দুল কাইয়ুম খান বলেন ডিঙ্গামানিক ইউনিয়নের রামসাধুর মন্দির একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। প্রতিবছর এখানে দেশি-বিদেশি অনেক পর্যটক আসে।অনেকেই আসেন আচার বিধি প্রতিপালনের জন্য। গত ১২ সেপ্টেম্বর জানা যায় রামসাধুর মন্দিরে পুরাতন ভবন ভাঙ্গা হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিষয়ে মন্দিরের একটি ব্যবস্থাপনা কমিটি আছে। তারা নিজস্ব সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার সংস্কার এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। আমি কমিটির সাথে কথা বলেছি আমাকে অবগত করেছেন নিজেরা সিদ্ধান্ত নিয়ে পুরাতন ভবন যেটা জড়াজীর্ণ ছিল ঝুঁকিপূর্ণ ছিল পর্যটকদের জন্য। মন্দিরের সম্মানিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বাহিরে থাকায় তাদের সাথে আমার দেখা হয়নি। তাদের সাথে ফোনে কথা হয়েছে। তারা আসলে তাদের সাথে আমরা বসবো কথা বলব তারা সেখানে কি উন্নয়নমূলক কাজ করবেন তা জানব।
শ্রীশ্রী রাম ঠাকুর ও তার পরিবার সম্পর্কিত কিছু তথ্যঃ
রাম ঠাকুরের পৈত্রিক বাড়ি ছিল শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া উপজেলার জপসায়। তাদের বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হলে রাম ঠাকুরের বাবা বেণীমাধব চক্রবর্তী ও কমলা দেবী ডিঙ্গামানিক ঠাকুরবাড়িতে চলে আসেন। যেহেতু কমলাদেবী একাই বাবা মায়ের সন্তান ছিলেন,তাই বাবার বাড়িতেই থেকে যান। সেই থেকেই ডিঙ্গামানিকে বসবাস শুরু হয় রাম ঠাকুর পরিবারের।
পরবর্তীতে শ্রীশ্রী রামচন্দ্র দেব জন্ম গ্রহন করেন ডিঙ্গামানিক ঠাকুর বাড়িতে। রামঠাকুর জীবদ্দশায় ৪০ বছর হিমালয়ে ধ্যানমগ্ন ছিলেন। কলিহত জীবের উদ্ধারে শেষ বয়সে এসে শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ রামঠাকুর তিনি তার অমিয় বাণী শ্রীনাম প্রদান শুরু করেন।
রাম ঠাকুরের জীবদ্দশায় তাঁর শেষ বয়সে ১৩৫৫ বঙ্গাব্দের ২৯ শে মাঘ ডিঙ্গামানিক শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়।রাম ঠাকুরের ভ্রাতুষ্পুত্র শ্রী গিরীন্দ্রমোহন চক্রবর্তী মহাশয় কে ঠাকুর নিজেই প্রথম মোহন্ত হিসেবে মনোনীত করেন। সেই থেকেই ঠাকুরের নির্দেশমতো বংশপরম্পরায় মোহন্ত মনোনীত হয়ে থাকেন। ডিঙ্গামানিক শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণের সেবা মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় তিঁনি নোয়াখালীর চৌমুহনীতে শারীরিক অসুস্থতায় শয্যাশায়ী ছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৪৯ সনে ১লা মে অক্ষয় তৃতীয়া'র দিন পরম দয়াল শ্রীশ্রী সত্যনারায়ণ রামঠাকুর নোয়াখালীর চৌমুহনীতে দেহ রাখেন। সেখানে শ্রী রাম ঠাকুরের সমাধী মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।