নিজস্ব প্রতিবেদন : জয় দেব নাথ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মতিথি জন্মাষ্টমী উপলক্ষে চট্টগ্রাম নগরে বর্ণাঢ্য মহাশোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতাকর্মী ও ভক্তদের অংশগ্রহণে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) নগরীর আন্দরকিল্লা থেকে শোভাযাত্রাটি বের হয়।
শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী। তিনি বলেন, পৃথিবীর সব ধর্মের অন্যতম মূল শিক্ষা হলো মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

শ্রীশ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ বাংলাদেশ-কেন্দ্রীয় কমিটির আয়োজনে জন্মাষ্টমী উৎসব উপলক্ষে এই মহাশোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়।
সিএমপি কমিশনার বলেন, মানুষের মূল্যায়ন ধর্মের পরিচয়ে নয়, বরং জ্ঞান, মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে হওয়া উচিত। দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকেরই দেশকে এগিয়ে নিতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন। কোনো ব্যক্তি যেন বিভাজন বা বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সকল ধর্মের মানুষকে নিজেদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব নির্বিঘ্নে পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
নগরীর আন্দরকিল্লা মোড়ে মহাশোভাযাত্রার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শ্রীমৎ স্বামী সচ্চিদানন্দ পুরী মহারাজ। মহাশোভাযাত্রা উপ-কমিটির আহ্বায়ক বাবুল ঘোষ বাবুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের শুরুতে গীতাপাঠ করেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি চন্দন দাশ।
মহাশোভাযাত্রা উপ-কমিটির সদস্যসচিব শিমুল মুহুরীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জন্মাষ্টমী উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট চন্দন তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক লায়ন আর.কে দাশ রুপু, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রাজীব ধর তমাল, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব দে পার্থসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রবর্তক ইসকন শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ দারুব্রহ্ম জগন্নাথ দাস ব্রহ্মচারী, নন্দনকানন রাধামাধব মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক তারণনিত্যানন্দ দাস ব্রহ্মচারী, চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক অর্পণ কান্তি ব্যানার্জি, কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি লায়ন তপন কান্তি দাশ, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী আশুতোষ দাশ, শিবু প্রসাদ দত্ত, বিদ্যালাল শীল ও হরিপদ দাশ।
পরে আন্দরকিল্লা থেকে মহাশোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে লালদীঘির পাড়, কোতোয়ালী মোড়, নিউমার্কেট, নন্দনকানন, ডিসি হিল ও চেরাগী পাহাড় মোড় প্রদক্ষিণ করে জেএম সেন হলে গিয়ে শেষ হয়।
শোভাযাত্রায় নগরের বিভিন্ন মন্দির ও ধর্মীয় সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও ভক্তরা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে আয়োজিত এই মহাশোভাযাত্রায় নগরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।