নিজস্ব প্রতিবেদক: অভিজিৎ দেউড়ী | বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
“প্রতিটি মন্দির হোক ধর্মীয় শিক্ষার আলোকিত কেন্দ্র”—এই অঙ্গীকারকে সামনে রেখে বাগেরহাটের রামপাল উপজেলায় সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও বাগেরহাট জেলা টিমের পৃষ্ঠপোষকতায় একটি নতুন সনাতনী বিদ্যাপীঠের উদ্বোধন করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে রামপাল উপজেলার ভাংগা-বেতকাটা সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রাঙ্গণে “২৩ নং ভাংগা-বেতকাটা-মিরাখালী সনাতনী বিদ্যাপীঠ”-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রামপাল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী নিত্যানন্দ কুমার বিশ্বাস। এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সাবেক ইউপি সদস্য শ্রী বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক শ্রী হরিপদ পাল। তিনি বলেন, কলিযুগে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার পাঠ ও অনুশীলন মানুষকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গীতা শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয়, বরং জীবন পরিচালনার একটি পূর্ণাঙ্গ দিকনির্দেশনা। নিয়মিত গীতা পাঠের মাধ্যমে মানুষের মন শুদ্ধ হয়, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকশিত হয় এবং চরিত্র গঠনে সহায়তা করে। তাই প্রতিটি মন্দিরকে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার আলোকিত কেন্দ্রে পরিণত করা প্রয়োজন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রামপাল উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শ্রী অজয় বিশ্বাস এবং সনাতনী স্বেচ্ছাসেবী ফাউন্ডেশন, বাগেরহাট জেলা টিমের উপদেষ্টা শ্রী গৌরাঙ্গ সাহা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভাংগা-বেতকাটা-মিরাখালী শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির কমিটির সভাপতি শ্রী বিকাশ চন্দ্র মণ্ডল।
আয়োজকরা জানান, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ ও ২০২৬ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠে ভাংগা, বেতকাটা, মিরাখালীসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের প্রায় ৭০ থেকে ৮০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা গ্রহণ করবে। বিদ্যাপীঠের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বৈষ্ণব শ্রী বাসুদেব পাল এবং বৈষ্ণব শ্রী রিপন বিশ্বাস (এমএ)।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শ্রী বিদ্যুৎ পাল ও শ্রী সুব্রত কুমার পাল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন শিক্ষার্থীদের মাঝে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা, খাতা-কলম, গীতা রাখার স্ট্যান্ড, একটি হোয়াইটবোর্ড ও মার্কার কলম বিতরণ করা হয়। আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি নিয়মিত গীতা পাঠ ও অনুশীলনের সুযোগ তৈরি করাই এই বিদ্যাপীঠ প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য।
তারা আরও আশা প্রকাশ করেন, স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মানুষ, অভিভাবক ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে এই বিদ্যাপীঠের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে এবং আশপাশের এলাকার আরও শিক্ষার্থী এর মাধ্যমে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত অতিথি, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এলাকার বিপুলসংখ্যক অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষ উপস্থিত ছিলেন।