নিজস্ব প্রতিবেদক : সুব্রত দাশ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
“ওঁ শিবায় লোকনাথ” এই মন্ত্রধ্বনিকে ধারণ করে ত্রিকালদর্শী, অন্তর্যামী, শিবকল্পতরু মহাযোগী শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬তম আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রামের পটিয়ায় আয়োজন করা হয়েছে বিশেষ ধর্মীয় অনুষ্ঠান “বিশ্বশান্তি শ্রীশ্রী গীতা পুষ্পযজ্ঞ”। আগামী ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার পটিয়া উপজেলার চক্রশালা এলাকায় অবস্থিত শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রমে এ মহতী ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে একজন মহান যোগী, সাধক ও মানবকল্যাণের আদর্শ হিসেবে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয়। তাঁর জীবন ও সাধনার অন্যতম শিক্ষা ছিল মানবতার কল্যাণ, সত্য ও ন্যায়ের পথে চলা, ঈশ্বরের প্রতি ভক্তি এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা। প্রতিবছর তাঁর আবির্ভাব দিবসকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান, পূজা-অর্চনা, গীতা পাঠ, নামসংকীর্তন, যজ্ঞ ও প্রার্থনাসহ নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় পটিয়ার চক্রশালা শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রমে এবারের আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছে বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণের উদ্দেশ্যে বিশেষ গীতা পুষ্পযজ্ঞ। ধর্মীয় এ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ভক্ত-অনুরাগীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬তম আবির্ভাব দিবসকে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পালন করাই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে বিশ্বশান্তি, মানবকল্যাণ, সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং সকলের মঙ্গল কামনায় ধর্মীয় প্রার্থনা ও আধ্যাত্মিক সাধনার পরিবেশ সৃষ্টি করা হবে।
“বিশ্বশান্তি শ্রীশ্রী গীতা পুষ্পযজ্ঞ” নামের এ আয়োজনের মাধ্যমে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার চিরন্তন শিক্ষা ও মানবকল্যাণের বাণী মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা। গীতার জ্ঞান, কর্ম, ভক্তি ও নৈতিকতার শিক্ষা ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এমন বিশ্বাস থেকেই ধর্মীয় এ আয়োজনের তাৎপর্য আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
চক্রশালা শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রম দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশেষ ধর্মীয় দিবস ও বিভিন্ন তিথি উপলক্ষে এখানে ভক্তদের সমাগম হয়ে থাকে। এবারের আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানেও বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত-অনুরাগীদের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছেন আয়োজকরা।
আয়োজকরা জানান, শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর জীবনাদর্শ, ত্যাগ, সাধনা ও মানবপ্রেমের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাও এ ধরনের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। ধর্মীয় অনুশাসনের পাশাপাশি মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সহমর্মিতা, পরোপকার এবং সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ মহতী ধর্মীয় অনুষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্ত-অনুরাগী, শুভানুধ্যায়ী এবং ধর্মপ্রাণ মানুষদের স্ব-পরিবারে উপস্থিত থাকার জন্য আন্তরিক আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সবার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন আয়োজকরা।
ধর্মীয় এ আয়োজনকে কেন্দ্র করে চক্রশালা শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী সেবাশ্রম প্রাঙ্গণে ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভক্তরা সেখানে একত্রিত হয়ে শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, ধর্মীয় ভাবনায় অংশগ্রহণ এবং বিশ্বশান্তি ও মানবজাতির কল্যাণে প্রার্থনা করার সুযোগ পাবেন।
আয়োজক শ্রীমৎ রণনাথ ব্রহ্মচারী বলেন, শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আবির্ভাব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ মঙ্গলময় অনুষ্ঠানে ধর্মপ্রাণ মানুষদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি সকলকে স্ব-পরিজনসহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ধর্মীয় এ আয়োজনে অংশগ্রহণ এবং অনুষ্ঠানকে সফল করতে সার্বিক সহযোগিতার আহ্বান জানান।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, মানুষের জীবনে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চা বৃদ্ধি এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ ধরনের ধর্মীয় আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রীশ্রী বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আদর্শকে ধারণ করে মানবকল্যাণে নিজেদের নিয়োজিত করার প্রত্যয় নিয়েই আবির্ভাব দিবসের এ আয়োজনকে সফল করার প্রত্যাশা তাঁদের।