নিজস্ব প্রতিবেদক : সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে সাতক্ষীরার ব্রহ্মরাজপুরে এবার দেখা মিলছে ব্যতিক্রমী এক শিল্পকর্মের। প্রচলিত খড়, বাঁশ ও মাটির পাশাপাশি প্রতিমা তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে বিপুলসংখ্যক দিয়াশলাই কাঠি। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে রেশমি সুতার সূক্ষ্ম কারুকাজ।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুরের শ্রীশ্রী দুর্গাপূজা মণ্ডপে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ প্রতিমা। আয়োজকদের ভাষ্য, প্রতিমাটি নির্মাণে ব্যবহার করা হচ্ছে দেড় লাখের বেশি দিয়াশলাই কাঠি এবং ১০ কেজিরও বেশি রেশমি সুতা। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দেখতে পূজা শুরুর আগেই মণ্ডপে আসছেন স্থানীয় বাসিন্দাসহ বিভিন্ন এলাকার দর্শনার্থীরা। সত্য সনাতন টিভি
মণ্ডপে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিমার মূল কাঠামোর ওপর একটির পর একটি দিয়াশলাই কাঠি অত্যন্ত নিখুঁতভাবে বসানো হচ্ছে। পরে রেশমি সুতা দিয়ে দেবীর পোশাক, অলংকার ও বিভিন্ন নকশা ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে। চারজন শিল্পী কয়েক মাস ধরে নিরলসভাবে কাজ করে প্রতিমাটিকে পূর্ণাঙ্গ রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
প্রতিমাশিল্পী নবদ্বীপ সরকার বলেন, দিয়াশলাই কাঠি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কৌশল তিনি ভারত থেকে শিখেছেন। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সাতক্ষীরায় প্রথমবারের মতো এমন প্রতিমা তৈরি করছেন তিনি। কাজটি সময়সাপেক্ষ হওয়ায় কয়েক মাস ধরে প্রতিমা নির্মাণের কাজ চলছে। সত্য সনাতন টিভি
ব্রহ্মরাজপুর পূজা উদ্যাপন কমিটির সভাপতি গৌতম কুমার বিশ্বাস বলেন, গত বছর ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করে প্রতিমা তৈরি করে তাঁরা আলোচনায় এসেছিলেন। এবারও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা থেকেই দিয়াশলাই কাঠি ও রেশমি সুতা দিয়ে প্রতিমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কাজে আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে।
দিয়াশলাই কাঠি দাহ্য হওয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রতিমায় বিশেষ রাসায়নিক প্রয়োগ করে আগুন লাগার ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সত্য সনাতন টিভি
পূজা কমিটির উপদেষ্টা কানাই লাল সাহার দাবি, বাংলাদেশে এত বিপুল পরিমাণ দিয়াশলাই কাঠি ব্যবহার করে প্রতিমা তৈরির ঘটনা বিরল। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন ঘিরে এবার দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থী আসবেন বলে তাঁরা আশা করছেন।
সাতক্ষীরা জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, জেলায় এবার পাঁচ শতাধিক পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে ব্রহ্মরাজপুরের দিয়াশলাই কাঠির প্রতিমাটি আলাদা করে মানুষের আগ্রহ তৈরি করেছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, পূজার দিনগুলোতে এই অভিনব প্রতিমা দেখতে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়বে। ধর্মীয় আয়োজনের পাশাপাশি নিখুঁত কারুশিল্পের এই নিদর্শন এবার ব্রহ্মরাজপুরের দুর্গোৎসবে যোগ করবে নতুন আকর্ষণ।