নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দাশ | রাউজান প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের রাউজানে একটি পারিবারিক মন্দির থেকে স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য চুরির ঘটনায় ১৮ বছর বয়সী এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর কাছ থেকে চুরি যাওয়া ২ ভরি ১ আনা স্বর্ণালংকার ও ৪ ভরি রৌপ্য উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার তরুণের নাম মুশফিকুর রহমান সিয়াম (১৮)। তিনি রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের কাগতিয়া এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানায়, গত ২২ আগস্ট দুপুর ১২টা ১৩ মিনিট থেকে ১২টা ১৬ মিনিটের মধ্যে রাউজান থানার চিকদাইর এলাকায় রাউজান টেকনিক্যাল স্কুলের উত্তর পাশে অবস্থিত একটি পারিবারিক মনসা মন্দির থেকে দেবীর পরিহিত বিভিন্ন স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য চুরি হয়। চুরি যাওয়া স্বর্ণের মোট ওজন ছিল ২ ভরি ৮ আনা, যার আনুমানিক মূল্য ৬ লাখ টাকা। এ ছাড়া ৪ ভরি রৌপ্যের আনুমানিক মূল্য ১৫ হাজার টাকা।
ঘটনার পর চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় রাউজান থানা-পুলিশ চোরাই মালামাল উদ্ধার ও জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্তে অভিযান শুরু করে। পুলিশ ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় সিয়ামের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর গতকাল ২৩ আগস্ট সকাল ৯টার দিকে পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাগতিয়া এলাকার মীর কাশেমের নতুন বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে সিয়ামের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বসতঘরের শয়নকক্ষে থাকা একটি স্টিলের আলমারি থেকে চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের মধ্যে রয়েছে এক জোড়া কানের দুল, একটি মাথার টিকলি, একটি লকেট ও দুটি বেলপাতা। এগুলোর মোট ওজন ২ ভরি ১ আনা। এ ছাড়া একটি গলার চেইন ও এক জোড়া নুপুরসহ ৪ ভরি রৌপ্য উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সিয়াম কয়েক দিন ধরে ওই মন্দিরে যাতায়াত করতেন। পূজা-অর্চনা ও মোমবাতি প্রজ্বালনের সময় তিনি মন্দিরের ভেতরের পরিবেশ ও পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা নেন। পরে সুযোগ বুঝে পূর্বপরিকল্পিতভাবে মন্দির থেকে স্বর্ণালংকার ও রৌপ্য নিয়ে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ঘটনায় মন্দিরের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক আশুতোষ সিংহের করা এজাহারের ভিত্তিতে রাউজান থানায় মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে পুলিশ।