নিজস্ব প্রতিবেদক : জশ দাশ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
স্বপ্ন শুধু নিজের সাফল্যে থেমে থাকবে না মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সামাজিক সচেতনতার জন্য কিছু করার প্রত্যয় নিয়েই এগিয়ে চলেছেন তরুণ আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী অর্ক রায়। আইন পেশার পাশাপাশি আইনবিষয়ক লেখালেখি, মানবাধিকারচর্চা ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডে অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি অর্জন করেছেন দুটি আন্তর্জাতিক সম্মাননা।
চট্টগ্রামের সাউদার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়াশোনা করেন অর্ক রায়। শিক্ষাজীবন শেষে আইন পেশায় যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি এবং ন্যায়বিচারের বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হন তিনি।
মালদ্বীপে আন্তর্জাতিক সম্মাননা
২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে মালদ্বীপে অনুষ্ঠিত ‘হিউম্যান হারমনি কনফারেন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল পিস অ্যাওয়ার্ড’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন অর্ক রায়। ৩৩টি দেশের মনোনীত ব্যক্তিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে আইনবিষয়ক লেখালেখি ও সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানবিক সম্প্রীতি, ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এক বছরের মধ্যেই দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি
এরপর একই বছরের ডিসেম্বর মাসে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে ঢাকায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে অর্ক রায় লাভ করেন ‘ইন্টারন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস পিস অ্যাওয়ার্ড ২০২৫’।
মানবাধিকার নিয়ে কাজ, প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রচেষ্টা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে তাঁকে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।
আইনকে মানুষের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াস
অর্ক রায়ের কাছে আইন কেবল আদালত, মামলা কিংবা আইনের বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ কোনো বিষয় নয়। সাধারণ মানুষ যেন নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন এবং আইনের জটিল বিষয়গুলো সহজ ভাষায় বুঝতে পারেন এ লক্ষ্যেই তিনি আইনবিষয়ক লেখালেখি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
ভূমি আইন, নারী ও শিশু সুরক্ষা, সাইবার অপরাধ, মানবাধিকারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাঁর লেখালেখি প্রকাশিত হয়েছে। এসব লেখার মাধ্যমে নাগরিকদের আইনগত অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করার চেষ্টা করছেন তিনি।
শৈশবের শিক্ষাই অনুপ্রেরণার ভিত্তি
মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার শিক্ষা অর্ক রায়ের জীবনে এসেছে পরিবার থেকেই। তাঁর মা কল্পনা বণিক সন্দ্বীপের কাজী খিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক। শৈশব থেকেই মায়ের কাছ থেকে সততা, সহমর্মিতা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল হওয়ার শিক্ষা পেয়েছেন বলে জানান অর্ক।
সেই শিক্ষাই পরবর্তী সময়ে তাঁর পেশাগত জীবনের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়ার অন্যতম অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে।
সম্মাননা মানুষের জন্য কাজের অনুপ্রেরণা
পরপর দুটি আন্তর্জাতিক সম্মাননাকে ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছেন না অর্ক রায়। তাঁর কাছে এসব স্বীকৃতি তাঁদের জন্য, যারা প্রতিনিয়ত ন্যায়বিচার ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশায় সংগ্রাম করে চলেছেন।
একজন তরুণ আইনজীবীর অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি আন্তর্জাতিক সম্মাননা অর্জন নিঃসন্দেহে অনুপ্রেরণাদায়ক। তবে তাঁর পথচলার বিশেষত্ব শুধু পুরস্কার অর্জনে নয়; বরং আইন পেশার পাশাপাশি মানবাধিকার, সামাজিক সচেতনতা এবং সাধারণ মানুষের অধিকার নিয়ে কাজ করার প্রত্যয়ে।
অর্ক রায়ের এই পথচলা প্রমাণ করে যোগ্যতা, মানবিক মূল্যবোধ, অধ্যবসায় ও মানুষের জন্য কাজ করার আন্তরিকতা থাকলে বাংলাদেশের তরুণরাও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে পারেন।