নিজস্ব প্রতিবেদক : সমীর রুদ্র| কক্সবাজার প্রতিনিধি
কক্সবাজারের আলোচিত সন্ন্যাসী নয়ন সাধু হত্যা মামলার সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিক অন্তর দে বিশালকে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে হুমকি ও গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে কক্সবাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকেরা।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেল চারটায় কক্সবাজার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে কক্সবাজার পৌরসভা চত্বর থেকে সাংবাদিকদের একটি মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সাংবাদিক অন্তর দে বিশাল দৈনিক সংবাদ সারাবেলার স্টাফ রিপোর্টার এবং স্থানীয় মাল্টিমিডিয়া সিজেএনের বার্তা সম্পাদক। সমাবেশে বক্তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া, হয়রানি করা কিংবা মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখানো স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর সরাসরি আঘাত। প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তাঁরা।
সাংবাদিক জয় বৈদ্যর সঞ্চালনায় এবং ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের (ক্র্যাক) সভাপতি জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন ক্র্যাকের সাধারণ সম্পাদক ও চ্যানেল ২৪-এর কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি আজিম নিহাদ, সাংবাদিক সংসদ কক্সবাজার জেলা শাখার সভাপতি আজিজ রাসেল, মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কক্সবাজারের সভাপতি মোজাম্মেল হক, গ্রীন টিভির জেলা প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ খান, নিউজ ২৪-এর জেলা প্রতিনিধি ইরফান উদ্দিন, খেলাঘর কক্সবাজার জেলার সাধারণ সম্পাদক এম. জসিম উদ্দিন এবং দৈনিক কক্সবাজারের স্টাফ রিপোর্টার তাজুল ইসলাম পলাশসহ অন্যরা।
যে কারণে হুমকির অভিযোগ
সাংবাদিকদের ভাষ্য, প্রায় তিন মাস আগে কক্সবাজারের আলোচিত নয়ন সাধু হত্যা নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেন অন্তর দে বিশাল ও তাঁর সহকর্মীরা। পরে দীর্ঘদিন পর মামলাটির তদন্তে আব্দু রহিম ওরফে একপিচ্চি নামের এক আসামিকে আটক করে কক্সবাজার জেলা পুলিশ। ওই আটকের সংবাদও অনুসরণ করে প্রকাশ করেন অন্তর দে বিশাল।
এরপর এক যুবক মুঠোফোনে প্রশাসনের পরিচয় দিয়ে তাঁকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক অন্তর। তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখানো এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। ওই ফোনকলের রেকর্ড পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অন্তর দে বিশালের অভিযোগ, হুমকির ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে তিনি কক্সবাজার সদর থানায় গেলে তা গ্রহণ না করে তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। পরে বিষয়টি তিনি কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম. সাজেদুর রহমানকে জানান।
সাংবাদিক অন্তরের দাবি, এ সময় পুলিশ সুপার তাঁকে জিডি করার প্রয়োজন নেই বলে জানান। একই সঙ্গে ‘আপনাকে সংবাদ কে প্রকাশ করতে বলেছে’—এমন মন্তব্যও করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ সুপারের সঙ্গে তাঁর কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ডও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সাংবাদিকদের দাবি
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর কক্সবাজারে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সাংবাদিকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে বক্তারা বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া বা প্রশাসনের পরিচয় ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখানো গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা হুমকিদাতাকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
একই সঙ্গে সাংবাদিক অন্তর দে বিশালের নিরাপত্তা নিশ্চিত, সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ তৈরি এবং সাংবাদিকদের হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানান তাঁরা।
সমাবেশে কক্সবাজারে কর্মরত আরও অনেক সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে শংকর বড়ুয়া রুমি, মুহিব উল্লাহ মুহিব, সিরাজুল ইসলাম আজাদ, মিজানুর রহমান, জাহাঙ্গীর আলম শামস, মুরাদ মাহমুদ, জাহেদ হোসেন, তানভিরুল মিরাজ রিপন, আব্দু শুক্কুর, ওসমান গণী এলি, আরোজ ফারুক, মোহাম্মদ আরমান, ফয়সাল রিয়াদ, আশরাফ বিন ইউছুপ, জিয়াবুল ইসলাম কাজলসহ অনেকে ছিলেন।
সমাবেশ থেকে সাংবাদিকেরা বলেন, সংবাদ প্রকাশের কারণে হুমকি বা হয়রানির ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে দ্রুত শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিক অন্তর দে বিশালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।