নিজস্ব প্রতিবেদক : সত্য সনাতন টিভি | অনলাইন সংস্করণ
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দুই হিন্দু শিক্ষার্থীকে গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন ও অপমানের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নয়ন গোলদার নামে এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে কাশিয়ানী উপজেলার রাহুথর এলাকার উদায়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৭ জুলাই বিদ্যালয়ের মাঠে দুই শিক্ষার্থীকে একটি গাছের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ ছিল, তা যথাযথভাবে যাচাই বা আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই এ ধরনের শাস্তি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের কোনো অনিয়ম বা অপরাধের অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। কিন্তু বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বাইরের লোকজন প্রবেশ করে শিক্ষার্থীদের গাছের সঙ্গে বেঁধে প্রকাশ্যে অপমান ও নির্যাতন করার ঘটনায় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর অপমান ও মানসিক আঘাতে এক নারী শিক্ষার্থী বিষপান করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এবং চিকিৎসাসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—বিদ্যালয়ের ভেতরে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যাদের, তাদের উপস্থিতি বা জানাশোনার মধ্যে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল? কোনো শিক্ষার্থী অপরাধ করলে তার বিচার বা শাস্তি দেওয়ার নামে ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতন কিংবা অপমান করার সুযোগ কারও নেই।
এদিকে, ঘটনায় মূলহোতা হিসেবে অভিযুক্ত নয়ন গোলদারকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে বলে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও যারা জড়িত, তাদের শনাক্ত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয়রা।
সনাতনী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা নিশ্চিত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কোনোভাবেই বিচারবহির্ভূত শাস্তি, অপমান বা নির্যাতনের স্থান হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ থাকলে তা আইন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিধি অনুযায়ী তদন্ত ও নিষ্পত্তি করা উচিত। তাই উদায়ন বিদ্যাপীঠ উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঘটনাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।