নিজস্ব প্রতিবেদক : জয় দাশ | চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে বিয়ের পিঁড়িতে বসতে চলেছে বিশিষ্ট গীতাপাঠক ও সংগীতশিল্পী শ্রীমান মিশন দত্ত (সপু)-এর শুভ বিবাহ।
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী চক্রশালা শ্রীশ্রী লোকনাথ সেবাশ্রমে আগামীকাল অনুষ্ঠিত হবে তার বিবাহের আসর।
সাতকানিয়া উপজেলার দক্ষিণ ব্রাহ্মণডেঙ্গা এলাকার বাসিন্দা স্বর্গত মাধব দাশগুপ্তা এর মেয়ে শ্রীমতি রিম্পা দাশগুপ্তার সাথে তার বিবাহ সম্পূর্ণ হবে।
এই বিবাহকে ঘিরে ইতিমধ্যে উঠেছে গুঞ্জন, কেননা এই বিবাহ হতে চলেছে মন্দিরভিত্তিক। প্রচলিত আধুনিক বিবাহের বাইরে মন্দিরভিত্তিক এই বিয়েকে ঘিরে ধর্মীয় আবহে ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিবাহে সারারাতব্যাপী চলবে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ, ভজন, কীর্তন ও ধর্মীয় সংগীতের আয়োজন করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ পাঞ্চজন্য গীতা পাঠক ও যন্ত্রশিল্পী সমন্বয় পরিষদের কেন্দ্রীয় ও বিভিন্ন উপজেলা শাখার গীতাপাঠক, যন্ত্রশিল্পী এবং ভক্তিমূলক সংগীতশিল্পীরা অংশ নেবেন। সত্য সনাতন টিভি
গীতাপাঠক ও সংগীতশিল্পী শ্রীমান মিশন দত্ত (সপু) সত্য সনাতন টিভিকে জানান, অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে গীতা অনুরাগী, সনাতন ধর্মাবলম্বী, ভক্তবৃন্দ ও শুভানুধ্যায়ীদের ব্যাপক উপস্থিতি প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, সারারাতব্যাপী গীতা পাঠ, ভক্তিমূলক সংগীত ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মন্দির প্রাঙ্গণে এক মনোমুগ্ধকর ও আধ্যাত্মিক পরিবেশের সৃষ্টি হবে।
প্রাচীন কাল ও মধ্যযুগীয় সময়ে মন্দিরকে কেবল পূজার স্থান হিসেবে নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনের কেন্দ্র হিসাবেও ব্যবহার করা হতো। তৎকালীন সমাজে মন্দির ভিত্তিক বিবাহ ছিল ধর্মীয়, সামাজিক এবং নৈতিক নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন হওয়া এক শুভ অনুষ্ঠান। বর-কনে মন্দিরে এসে অগ্নি, দেবতা এবং পূজারি-সন্ন্যাসীদের উপস্থিতিতে বিবাহের শপথ গ্রহণ করতেন। এতে কেবল দাম্পত্যের সম্পর্কই স্থাপন হতো না, বরং সম্প্রদায়ের ঐক্য, ধর্মীয় নিয়মকানুনের সম্মান এবং সংস্কৃতির ধারাও সুসংহত হতো। "সত্য সনাতন টিভি"
এরপর উনিশ শতক ও বিশ শতকের শুরুতে উপনিবেশিক প্রভাব ও আধুনিক শিক্ষার কারণে মন্দির ভিত্তিক বিবাহ ধীরে ধীরে কমে যায়। বহু মানুষ তখন কমিউনিটি হল বা বাড়িতে বিবাহ করতে শুরু করে, তারপর ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে থাকে মন্দির ভিত্তিক বিবাহ প্রথা।
সাম্প্রতিক সময়ের গীতাপাঠক ও সংগীতশিল্পী শ্রীমান মিশন দত্ত (সপু)- সহিত শ্রীমতি রিম্পা দাশগুপ্তার এই মন্দির ভিত্তিক বিবাহ সমাজে উজ্জ্বল উদাহরণ স্থাপিত করবে বলে ধারণা করছেন ধর্মীয় গুরুরা।